লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

টুইট ডেস্ক: দেশে লুণ্ঠিত অস্ত্র ও গোলাবারুদ পুরোপুরি উদ্ধার না হওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা তুলে ধরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে লুণ্ঠিত সব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের সব কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মাহমুদুল হাসান এই রিটটি দায়ের করেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি জমা দেওয়া হয়। এটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পাঠানো একটি আইনি নোটিশের ধারাবাহিকতায় করা হয়েছে।
রিটে বিবাদী করা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং র্যাবের মহাপরিচালককে।
রিটে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে বিভিন্ন থানা, আউটপোস্ট, কারাগার ও নিরাপত্তা স্থাপনা থেকে লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ এখনও পুরোপুরি উদ্ধার হয়নি। এসব অস্ত্র অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় ভোটার, প্রার্থী এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাদের জীবনের ঝুঁকি বাড়ছে, যা সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বড় বাধা।
রিটে বলা হয়, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে পাঠানো আইনি নোটিশে সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে হাইকোর্টের শরণাপন্ন হতে হয়েছে।
রিটে মনোনয়ন দাখিল, প্রচারণা ও ভোটগ্রহণসহ নির্বাচনের সব কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
লুণ্ঠিত অস্ত্র
২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের সময় আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন পুলিশ স্টেশন, নিরাপত্তা স্থাপনা ও কারাগার থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র লুণ্ঠিত হয়।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোট লুণ্ঠিত অস্ত্রের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার ৭৬৩টি (পিস্তল, রাইফেল, শটগানসহ) এবং লক্ষাধিক রাউন্ড গোলাবারুদ।
এ পর্যন্ত প্রায় ৮৫ শতাংশ অস্ত্র উদ্ধার হলেও প্রায় ১৫ শতাংশ বা আনুমানিক ৮৬০টি অস্ত্র এখনও অনুদ্ধার রয়েছে।
গোলাবারুদের ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ শতাংশ এখনো উদ্ধার হয়নি।
পুলিশের চলমান “অপারেশন ডেভিল হান্ট”-এর মাধ্যমে কিছু অস্ত্র উদ্ধার হলেও অগ্রগতি ধীর বলে রিটে উল্লেখ করা হয়। এমনকি ডিসেম্বর ২০২৫-এ ঢাকা-৮ আসনের এক প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় লুণ্ঠিত অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।
রিটে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন যে অনুদ্ধার অস্ত্র নির্বাচনকালীন নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে।
নির্বাচনের সময়সূচি
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী—
ভোটগ্রহণ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বৃহস্পতিবার), সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।
একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মনোনয়ন দাখিল: ১২–২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ (ইতোমধ্যে সম্পন্ন)।
নির্বাচনী প্রচারণা: ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
নির্বাচন উপলক্ষে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের সব ধরনের সাংগঠনিক নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
রিটটির শুনানি এখনো শুরু হয়নি এবং ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আদেশ দেওয়া হয়নি।
আইন সংশ্লিষ্টদের মতে, হাইকোর্ট যদি রিটটি গ্রহণ করে স্থগিতাদেশ জারি করে, তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে এবং নির্বাচন পেছানোর সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনকালীন নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রিটের দাবিকে যৌক্তিক বলে মনে করছে। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রিটটি গ্রহণ করা হলে নির্বাচন, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।






