রংপুরে প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে ও আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ

প্রতারণামূলক বিয়ে: নারীর সঙ্গে আর্থিক প্রতারণা ও হুমকির অভিযোগ!
তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় এক যুবক প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে করে স্ত্রী ও তার পরিবারের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা, স্বর্ণালঙ্কার এবং অন্যান্য সম্পদ হাতিয়ে নিয়ে জোরপূর্বক তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী নারী মমতা বেগম বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
বিবাহ ও প্রতারণার কাহিনী
মমতা বেগম নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার কিসামত ডাঙ্গি হেডপাড়া এলাকার মাহাতাব উদ্দিনের কন্যা। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি তারাগঞ্জের আলমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর ডাঙ্গাপাড়া (দিলালপুর) গ্রামের আব্দুর ছাত্তারের পুত্র আতিকুল ইসলামের সঙ্গে পারিবারিক সম্মতিক্রমে তার বিয়ে হয়। বিয়েটি সরকারি রেজিস্ট্রি কাবিননামার মাধ্যমে সম্পন্ন হয় এবং দেনমোহর নির্ধারিত হয় ৪,৫০,২০৫ টাকা।
বিবাহের সময় আতিকুল ইসলাম নিজেকে ঢাকায় কর্মরত গোয়েন্দা বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। এই মিথ্যা পরিচয়ের ভিত্তিতে বিশ্বাস স্থাপন করে বিয়ের পর কয়েক দফায় মমতা বেগমের কাছ থেকে মোট ১৫ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়। মোটরসাইকেল কেনা এবং তারাগঞ্জের সদরে বাড়ি নির্মাণের অজুহাত দেখিয়েও অর্থ লোপাট করেন আতিকুল । এছাড়া তার ভাইদের কাছ থেকেও ছয় লক্ষাধিক টাকা নেওয়া হয় বিভিন্ন অজুহাতে । বিবাহের সময় মমতার পরিবার (আতিকুল) স্বামীর বাড়িতে টেলিভিশন, ফ্রিজসহ পাঁচ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে আসে, যা পরবর্তীতে আতিকুল ইসলাম হাতিয়ে নেন।
নির্যাতন এবং জোরপূর্বক তালাক
দাম্পত্য জীবনে মমতা বেগম নিয়মিত মানসিক চাপ এবং পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হন। পরে জানা যায়, আতিকুল ইসলামের আগে ঢাকায় আরেকটি বিয়ে ছিল যা গোপন রাখা হয়েছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর দাম্পত্য সম্পর্ক চরম টানাপোড়েনের মধ্যে পড়ে।
মমতা বেগম অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে জোরপূর্বক তালাক দেওয়া হয়, তবে তিনি তালাকের কোনো কপি পাননি। তালাকের পর থেকে প্রাক্তন স্বামী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে ভয়ভীতি, হুমকি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি তারাগঞ্জ এলাকায় স্বামীর বাড়িতে গেলে হামলার চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকিও পাওয়া যায়।
মমতা বেগম বলেন, “আমার বাবার প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। প্রতারণার মাধ্যমে আমাকে বিয়ে করা হয়েছে। স্বামী আগে বিবাহিত ছিল এবং বিয়ের সময় মিথ্যা পরিচয় দিয়েছে। এখন আমাদের জীবন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।” রক্তমাখা নির্যাতনের ছবিও tweetnews24.com প্রতিনিধির হাতে এসেছে।
আইনি প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে করা ফৌজদারি অপরাধ। এর জন্য দণ্ডবিধি ১৮৬০ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এ বিধান রয়েছে।
আইনি ধারাগুলো নিশ্চিত করে যে প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে করা বা প্রলোভন সৃষ্টি করা অপরাধ এবং এর মাধ্যমে নারী ও শিশুর অধিকার রক্ষা করা হয়।
প্রশাসন ও নিরাপত্তা
অভিযুক্ত আতিকুল ইসলাম এবং তার পরিবারের বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। মমতা বেগম প্রশাসন থেকে জরুরি সহায়তা ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতারণামূলক বিয়ের ঘটনা এলাকায় বিরল নয়, তবে আর্থিক আত্মসাতের সাথে হুমকি এবং নির্যাতন জড়িত হওয়ায় এটি বিশেষভাবে গুরুতর।
প্রতারণামূলক বিয়ে শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, বরং মানসিক নির্যাতন ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে। নারীদের অধিকার সুরক্ষার জন্য দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং আইনি ব্যবস্থা অপরিহার্য।






