টেকনাফ সীমান্তে গুলিবিদ্ধ ১২ বছরের হুজাইফা আইসিইউতে, মিয়ানমার রাষ্ট্রদূত তলব

টেকনাফ সীমান্তে গুলির শব্দ, ঢাকায় কূটনৈতিক ঝাঁকুনি।

টুইট ডেস্ক: মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় অপ্ররোচিত গুলিবর্ষণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। সর্বশেষ এ ঘটনায় কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইকং ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমারের দিক থেকে ছোড়া গুলিতে একটি ১২ বছর বয়সী বাংলাদেশি কিশোরী গুরুতর আহত হয়েছে।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ কিয়াও সো মোকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে।

সীমান্তে গুলিতে গুরুতর আহত কিশোরী

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ১১ জানুয়ারি রোববার কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইকং ইউনিয়ন সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমারের দিক থেকে ছোড়া গুলিতে হুজাইফা আফনান (১২) নামের এক বাংলাদেশি কিশোরী আহত হয়। গুলি তার মাথায় লেগে মস্তিষ্কে আটকে যায়।

আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

রাষ্ট্রদূতকে তলব, কড়া প্রতিবাদ

এ ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ কিয়াও সো মোকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মিয়ানমারের দিক থেকে এই ধরনের অপ্ররোচিত গুলিবর্ষণ আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ভালো প্রতিবেশী সম্পর্কের পরিপন্থী।

বাংলাদেশ সরকার এ ধরনের সীমান্ত অতিক্রমকারী গুলিবর্ষণ অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য মিয়ানমারকে পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানায় এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়।

সীমান্তে বাংলাদেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, মিয়ানমার সরকার ও সেখানে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ সংঘাত যা-ই থাকুক না কেন, তা যেন বাংলাদেশের জনগণের জীবন ও জীবিকার ওপর কোনোভাবেই প্রভাব না ফেলে—এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে মিয়ানমারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বৈঠকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত আশ্বাস দেন যে, তার সরকার এ ধরনের ঘটনা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে তিনি আহত কিশোরী ও তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ছে

এই ঘটনা টেকনাফ সীমান্তে চলমান উত্তেজনার আরও একটি উদাহরণ। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি (AA), রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী (ARSA, ARA, RIM) এবং জান্তা বাহিনীর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ ও বিমান হামলার কারণে গত এক মাসে (ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে জানুয়ারি ২০২৬) সীমান্ত এলাকায় গুলি ও বিস্ফোরণের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এসব ঘটনার ফলে ইতোমধ্যে অন্তত ৫ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন এবং সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সূত্র: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (প্রেস বিজ্ঞপ্তি নং: ১৯.০০.০০০০.৬২৫.০৩.০০২.২৬/০০৭, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬)