পাহাড়ে ভোট যুদ্ধ: বান্দরবানে বিএনপির সুযোগ

বান্দরবান–৩০০ আসনে নতুন মোড়: জেএসএস না লড়লে বিএনপির “সবুজ সংকেত”!

অসীম রায় (অশ্বিনী), বান্দরবান: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের টিকিট বিতরণের শেষ দিনে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে বান্দরবান–৩০০ আসনের নির্বাচনী হিসাব-নিকাশে বড় পরিবর্তন এসেছে।

জেএসএস জানিয়েছে, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ ও অধিকারকে সামনে রেখেই তারা নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলটি এটিকে সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক অবস্থান বলে দাবি করেছে।

জেএসএস নির্বাচনের বাইরে থাকায় পাহাড়ি ভোটের বড় অংশ বিএনপির দিকে ঝুঁকতে পারে। দলের এক নেতা জানান, “এটা আমাদের জন্য স্পষ্ট সবুজ সংকেত।” বিএনপির প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী ইতিমধ্যেই জেলা জুড়ে সক্রিয় গণসংযোগ চালাচ্ছেন।

বান্দরবান–৩০০ আসনে ইতিমধ্যেই পাঁচটি দলের প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। বিএনপির পক্ষে সাচিং প্রু জেরী, এনসিপি থেকে সুজাউদ্দিন সুজা, জামায়াতে ইসলামীর আবুল কালাম, ইসলামী আন্দোলনের আবুল কালাম আজাদ এবং জাতীয় পার্টি (কাদের) থেকে আবু জাফর মোহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন সব মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।

নির্বাচনী চিত্রে পরিবর্তন এসেছে। তফসিল ঘোষণার পর বান্দরবান–৩০০ আসনে জটিল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে জেএসএস না থাকায় মূল লড়াই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়েছে। জেএসএসের সম্ভাব্য প্রার্থী কে এস মং-এর ভোটভিত্তি ও সামাজিক প্রভাব বিএনপির প্রার্থী সাচিং প্রু জেরীর সঙ্গে মিলে যাওয়ায়, নির্বাচনী চিত্রে বিএনপির অবস্থান উজ্জ্বলভাবে শক্তিশালী হয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পার্বত্য অঞ্চলের ভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। জেএসএস না থাকায় বিএনপির প্রার্থী সাচিং প্রু জেরীর জয় সম্ভাব্যত: আরও নিশ্চিত হয়ে উঠেছে। তবে বিএনপির ভেতরে মনোনয়ন ইস্যু কিছুটা উত্তাপ তৈরি করলেও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।

ভোটাররা মনে করছেন, তারা সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিতে চান, বিশেষ করে যারা পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অধিকার, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য কাজ করবে। বনাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ, হাটবাজার ভ্রমণ ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় ইতিমধ্যেই নির্বাচনী মাঠকে সরগরম করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জেএসএসের বাইরে থাকার সিদ্ধান্ত বিএনপিকে বান্দরবান–৩০০ আসনে নির্বাচনী সুবিধা এনে দিয়েছে। আসনটি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ভোট এবং স্থানীয় সামাজিক প্রভাবের কারণে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।