বিএনপি কোন্দল, জামায়াতের সুযোগ: লালমনিরহাট নির্বাচনের মাঠ গরম

লালমনিরহাটের তিন আসনে নির্বাচনী উত্তাপ: বিএনপির কোন্দল, জামায়াতের সুসংগঠিত প্রচার, জাপার কামব্যাক চেষ্টা।
টুইট প্রতিবেদক: লালমনিরহাট জেলার তিনটি সংসদীয় আসন (লালমনিরহাট-১, -২, -৩) আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ঘিরে সরগরম। তিস্তা মহাপরিকল্পনা, নদীভাঙন রোধ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের মতো ইস্যুতে ভোটারদের প্রত্যাশা উচ্চ।
বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং জাতীয় পার্টির (জাপা) নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে জামায়াতে ইসলামী শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। জুলাই ২০২৪ উত্থানের পর আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় মাঠে প্রধান লড়াই বিএনপি, জামায়াত এবং জাপার মধ্যে। সাম্প্রতিক নমিনেশন স্ক্রুটিনিতে লালমনিরহাটে ৫টি প্রার্থীর নমিনেশন ক্যান্সেল হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
লালমনিরহাট-১: জামায়াতের শক্ত অবস্থান
এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৬৮৩ জন। তিনবিঘা করিডোর এবং বুড়িমারী স্থলবন্দরের কারণে এটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজু কোভিডকালীন সাহায্য এবং তৃণমূল সংগঠনের সুবাদে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তিনি ইউনিয়নভিত্তিক সভা এবং গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন।
বিএনপির হাসান রাজীব প্রধান মাঠে সক্রিয়, কিন্তু দলীয় কোন্দলের ছায়া পড়েছে। জাপার মশিউর রহমান রাঙ্গা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন, যদিও দলটির সাংগঠনিক জৌলুস হারিয়েছে।
অন্যান্য প্রার্থী: ইসলামী আন্দোলনের ফজলুল করিম শাহরিয়ার, এবি পার্টির আবু রাইহান রছি, স্বতন্ত্র শিহাব আহমেদ এবং রেদওয়ানুল হক সন্ধান। বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াত এখানে বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে।
লালমনিরহাট-২: ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা
আসনটিতে ভোটার ৪ লাখ ২৬ হাজার ১৭৯ জন। অতীতে জাপার দুর্গ হলেও এখন জামায়াতের ফিরোজ হায়দার লাভলু মাঠ দখল করেছেন। তিনি দরিদ্রদের সাহায্য, চিকিৎসাসেবা এবং এতিমদের উন্নয়নে কাজ করে জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছেন।
বিএনপির রোকন উদ্দিন বাবুল সদ্য মনোনয়ন পেয়েছেন, কিন্তু দলের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি (সালেহ উদ্দিন আহমেদ হেলাল, ড. রোকনুজ্জামান এবং জাহাঙ্গীর আলমের মতো মনোনয়নবঞ্চিতদের ক্ষোভ) চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। জাপার সাবেক এমপি মজিবুর রহমানের পুত্র শামীম কামাল ‘জনতার দল’ গঠন করে প্রচার চালাচ্ছেন।
ইসলামী আন্দোলনের মুফতি মাহফুজুর রহমানও সক্রিয়। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এখানে বিএনপি, জামায়াত এবং জনতার দলের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা। জাপা কামব্যাকের চেষ্টা করলেও সাংগঠনিক দুর্বলতা বাধা।
লালমনিরহাট-৩: বিএনপি-জামায়াতের প্রধান লড়াই
আসনটিতে ভোটার প্রায় ৩ লাখ (সদর উপজেলা ভিত্তিক)। বিএনপির আসাদুল হাবিব দুলু (জেলা সভাপতি) শক্ত অবস্থানে, যিনি ২০০১-এ এমপি হয়ে মন্ত্রিত্ব পেয়েছিলেন। জামায়াতের আবু তাহের ক্লিন ইমেজ এবং গণসংযোগ (মসজিদ, জানাজা, উন্নয়ন কাজ) দিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ছেন।
জাপার জিএম কাদেরের অতীত অবস্থান ছিল, কিন্তু দলটির ইমেজ সংকটে জনপ্রিয়তা কমেছে। ইসলামী আন্দোলনের মোকছেদুল ইসলাম সক্রিয়। বিএনপির ৬৩টি খালি আসনের মধ্যে এটি অ্যালায়েন্সের জন্য খোলা থাকতে পারে। জামায়াত এখানে বিএনপির সাথে কড়া লড়াইয়ের সম্ভাবনা।
ভোটারদের প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ
ভোটাররা দুর্নীতিমুক্ত শাসন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ চান। দহগ্রামের শিক্ষক দবিয়ার রহমান বলেন, “সৎ-যোগ্য নেতৃত্ব চাই।” আদিতমারীর গোলাপ মিয়া এবং মরিয়ম বেগম মাদক এবং মূল্যস্ফীতির অভিযোগ তোলেন। মোগলহাটের আবিদা বেগম দুর্নীতিমুক্ত লালমনিরহাট চান, যখন তরুণ কামাল মিয়া কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি খোঁজেন। বিএনপির রেবেল প্রার্থীদের উত্থান (১০০+ আসনে) লালমনিরহাটেও প্রভাব ফেলতে পারে।
জামায়াতের সুসংগঠিত প্রচার এবং বিএনপির কোন্দলের সুযোগে এ জেলায় চমক দেখা যেতে পারে। নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক স্ক্রুটিনিতে বিএনপি, জামায়াত এবং জাপার শীর্ষ নেতাদের নমিনেশন উপহেল্ড হয়েছে।
সূত্র: আমারদেশ, ডেইলি কান্ট্রি টুডে, প্রথম আলো, দ্য পলিটি, বিডিনিউজ২৪, দ্য ডেইলি স্টার, টিবিএস নিউজ, বার্তা২৪






