পুনঃভর্তি ফি: শিক্ষা ব্যবস্থার নামে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে ছদ্মবেশী চাঁদাবাজিতে জিম্মি সাধারণ পরিবার।

টুইট প্রতি‌বেদক: দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় তথাকথিত ‘পুনঃভর্তি ফি’ এখন আর কোনো প্রশাসনিক নিয়ম নয়—এটি স্পষ্টতই একটি প্রকাশ্য আর্থিক নিপীড়ন।

নিয়মিত ক্লাস করা, কোনো বকেয়া না রাখা এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পরবর্তী শ্রেণিতে প্রমোশন পাওয়া একজন শিক্ষার্থীকে আবার নতুন করে ভর্তি করানোর যে অযৌক্তিক প্রথা চালু হয়েছে, তা সম্পূর্ণভাবে অবৈধ, অমানবিক এবং নীতিবিরোধী।

একজন শিক্ষার্থী স্কুল ছেড়ে যায়নি, ভর্তি বাতিল হয়নি, নিয়ম ভাঙেনি—তাহলে সে কী অপরাধে প্রতি বছর নতুন করে ‘ভর্তি ফি’ দেবে? এর কোনো আইনি, নৈতিক বা শিক্ষাগত ব্যাখ্যা নেই।

জানুয়ারি এলেই অভিভাবকদের পকেটে ছুরি
জানুয়ারি মাস মানেই সাধারণ পরিবারের ওপর সংগঠিত আক্রমণ। বই, ড্রেস, জুতা, ব্যাগ, খাতা—এসবের খরচ সামলাতেই মানুষ হাঁপিয়ে ওঠে। তার ওপর এই অযৌক্তিক পুনঃভর্তি ফি যেন মৃত মানুষের শরীরে আরেক দফা আঘাত।
যাদের দুই বা তিনজন সন্তান স্কুলে পড়ে, তাদের জন্য এই খরচ কোনো ‘ফি’ নয়—এটি একপ্রকার আর্থিক শাস্তি। অনেক পরিবার বাধ্য হচ্ছে ধারদেনা করতে, স্বর্ণ বিক্রি করতে, এমনকি সন্তানের পড়াশোনা বন্ধ করার কথাও ভাবতে।

অভিভাবকরা জিম্মি, স্কুল কমিটিগুলো বেপরোয়া

স্কুল পরিবর্তন করা সহজ নয়। তাই অভিভাবকরা আজ জিম্মি। তারা জানেন, প্রতিবাদ করলে সন্তানের ওপর চাপ আসবে, নাম কাটা যাবে, অপমান করা হবে। এই ভয় দেখিয়েই কিছু স্কুল কমিটি বছরের পর বছর নির্বিঘ্নে টাকা আদায় করছে।
এটি অনেকটা এমন—বাসে উঠে ভাড়া দেওয়ার পরও প্রতিটি জেলায় থামিয়ে আবার ভাড়া দাবি করা। যাত্রী না পারছে নামতে, না পারছে প্রতিবাদ করতে। এটাই আজ অভিভাবকদের বাস্তবতা।

শিক্ষা নয়, নির্লজ্জ ব্যবসা

যারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে আছেন, তাদের একাংশ শিক্ষা ব্যবস্থাকে নির্লজ্জ ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্মে পরিণত করেছেন। পুনঃভর্তি ফি মূলত একটি ছদ্মবেশী চাঁদাবাজি—যার কোনো স্বচ্ছ হিসাব নেই, নেই কোনো জবাবদিহি।

প্রশ্ন হলো—এই টাকার হিসাব কে নেয়? শিক্ষা বোর্ড? শিক্ষা মন্ত্রণালয়? নাকি কেউই না?

রাষ্ট্রের নীরবতা অপরাধের শামিল

সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয়, এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র কার্যত নীরব। শিক্ষা প্রশাসনের এই নীরবতা এখন অন্যায়কে বৈধতা দেওয়ার শামিল। যখন রাষ্ট্র কথা বলে না, তখন লুটপাটকারীরা আরও বেপরোয়া হয়।

এখনই বন্ধ করতে হবে

শিক্ষা কোনো পণ্য নয়, এটি সংবিধানস্বীকৃত মৌলিক অধিকার। তাই প্রতি বছর এই অযৌক্তিক ‘রি-অ্যাডমিশন’ বা পুনঃভর্তি ফি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা, কঠোর তদারকি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি।

খুব শিগগিরই সাধারণ মানুষের পক্ষে সন্তানকে স্কুলে পাঠানো নয়—স্কুলে রাখাই অসম্ভব হয়ে পড়বে।

মূল লেখক: শারমিন হৃদি