টেকনাফে মাইন বিস্ফোরণে যুবকের দুই পা বিচ্ছিন্ন

টেকনাফ সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে যুবকের দুই পা বিচ্ছিন্ন, জনতা সড়ক অবরোধ!
টুইট ডেস্ক: কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে এক যুবকের দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে স্থানীয় জনতার মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। বিক্ষুব্ধ জনতা টেকনাফ-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করেছে, ফলে যান চলাচল বন্ধে আছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল গ্রামের ফজলুল করিমের ছেলে মো. হানিফ (২২) সকালে চিংড়ি ঘেরে মাছ শিকার করতে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশ ভূখণ্ডের ৫ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে হঠাৎ একটি ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরিত হয়, যার ফলে তার দুটি পা বিচ্ছিন্ন হয়। আহত হানিফকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে চিকিত্সকরা তার অবস্থাকে আশঙ্কাজনক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বিস্ফোরণের পর স্থানীয় জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে মহাসড়কে ব্যারিকেড বসিয়ে প্রতিবাদ শুরু করে। তারা সীমান্তে মাইন অপসারণ ও নিরাপত্তা বৃদ্ধির দাবি জানাচ্ছে। বিজিবি ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।
সরকারি ও সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ এবং আরাকান আর্মির কার্যক্রমের কারণে এই এলাকায় মাইন ঘনত্ব বেড়েছে। ২০২৫ সালে একই ধরনের বিস্ফোরণে নাইখোংছড়ি ও টেকনাফে কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন, যার মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থীও ছিলেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জানান, “এই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে, সরকারকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে হবে।” বিজিবি মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং সীমান্তে মাইন অপসারণের দাবি জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এই ঘটনা সীমান্তের নিরাপত্তা ও মানবিক সংকটকে আরও প্রকট করেছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের প্রভাব বাংলাদেশে আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত এবং প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।







