তেহরানে বিক্ষোভে ভয়াবহ মৃত্যু ও সংঘর্ষ, হাসপাতালে লাশের স্তূপ

তেহরানে উত্তাল রাস্তায় লাশের স্তূপ, হাসপাতাল ওভারলোড, নিরাপত্তা বাহিনীরও হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে।
বিশ্ব ডেস্ক: ইরানের রাজধানী তেহরান এখন চলমান বিক্ষোভের সবচেয়ে উত্তপ্ত কেন্দ্র। ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন মূলত অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদ হিসেবে শুরু হলেও দ্রুত সরকারবিরোধী রূপ নিয়েছে।
ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট (৮ জানুয়ারি থেকে), লাইভ অ্যামুনিশন ব্যবহার এবং নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র দমন-পীড়নের কারণে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হলেও স্থানীয় সূত্র, মানবাধিকার সংস্থা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিও থেকে পাওয়া তথ্য ভয়ঙ্কর চিত্র উপস্থাপন করছে।
তেহরানের অন্তত ছয়টি হাসপাতালে — যেমন Farabi Eye Hospital, Ghadir Hospital ও Kahrizak Forensic Center — ২১৭+ প্রতিবাদকারীর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। অধিকাংশই লাইভ অ্যামুনিশনের গুলিতে নিহত। একজন স্থানীয় চিকিৎসক TIME ম্যাগাজিনকে বলেছেন, নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগ যুবক, যাদের মাথা ও হৃদয়ে সরাসরি গুলি করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাহিনী পুলিশ স্টেশনের বাইরে মেশিনগান ফায়ার করেছে।
দক্ষিণ তেহরানের কাহরিজাক ফরেনসিক সেন্টারের ভিডিওতে দেখা যায় শত শত লাশ বডি ব্যাগে রাখা, পরিবারের সদস্যরা কাঁদতে কাঁদতে লাশ শনাক্তের চেষ্টা করছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, “বডিজ পাইল্ড আপ অন ইচ আদার।” নোবেল বিজয়ী শিরিন এবাদি সতর্ক করেছেন যে হাসপাতালে প্রচুর আহত রোগী এসেছে, চোখ ও শরীরের গভীর আঘাতসহ, যা একটি “ম্যাসাকার” ইঙ্গিত দেয়। Farabi Eye Hospital এখন “ক্রাইসিস মোড”-এ, যেখানে নন-জরুরি সার্জারি স্থগিত, শুধুমাত্র জরুরি রোগী গ্রহণ করা হচ্ছে।
আহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। হাসপাতালগুলো ওভারলোড, রক্তের অভাব এবং সীমিত চিকিৎসা সুবিধার কারণে অনেক আহতের মৃত্যু হচ্ছে। অনেককে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, আহতদের মধ্যে অনেককে “বডিজ পাইল্ড” অবস্থায় রাখা হয়েছে, যা পরিস্থিতির তীব্রতা দেখায়।
গ্রেপ্তার সংখ্যাও বিপুল — শুধুমাত্র তেহরানে হাজারেরও বেশি মানুষ গ্রেপ্তার, এবং জাতীয়ভাবে ১০,৬৮১+। সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতিও ব্যাপক; পুলিশ স্টেশন, মসজিদ, ব্যাংক, আইআরজিসি অফিসে আগুন লাগানো হয়েছে।
জাতীয় মানবাধিকার সংস্থা HRANA অনুযায়ী, দেশব্যাপী মৃতের সংখ্যা ৫৪৪+, যার মধ্যে প্রতিবাদকারী ৪৯০+ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ৪৮+। তেহরানে মৃত্যু সর্বাধিক (৪০-৫০%)। কিছু রিপোর্টে (Iran International) বলা হয়েছে, মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় ২,০০০+ মৃত্যু হতে পারে, তবে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে যাচাই কঠিন। সরকার দাবি করছে নিরাপত্তা বাহিনীর ১০০+ মৃত্যু হয়েছে, যা স্বাধীন সূত্রে যাচাই হয়নি।
পরিস্থিতি তীব্র উত্তপ্ত। নিরাপত্তা বাহিনী দমন আরও জোরদার করছে, তবে প্রতিবাদ অব্যাহত। জাতিসংঘ “শকড” হয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প “স্ট্রং অপশনস” বিবেচনা করছেন। বিক্ষোভ ও দমনের এই সংঘর্ষের কারণে আন্তর্জাতিক মনোযোগ তীব্রভাবে কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
পরিস্থিতি ঘণ্টায় ঘণ্টায় পরিবর্তিত হচ্ছে। তেহরান ও ইরানের অন্যান্য শহরে অব্যাহত সংঘর্ষ ও মানবিক সংকট চলছেই।







