টেকনাফ সীমান্তে ৫৩ সশস্ত্র সদস্য আটক, শিশুসহ গুলিবিদ্ধ ৩

মিয়ানমার সীমান্তে গোলাগুলির প্রভাবে টেকনাফে ৫৩ সশস্ত্র সদস্য আটক, শিশু গুলিবিদ্ধ।
টুইট ডেস্ক: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি (Arakan Army – AA) এবং রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী যেমন আরসা (ARSA), আরএসও (RSO) ও নবী হোসেন গ্রুপের (Arakan Rohingya Army – ARA) মধ্যে চলমান তীব্র সংঘর্ষের প্রভাব বাংলাদেশি সীমান্তের টেকনাফেও পড়েছে।
সীমান্তবর্তী হোয়াইক্যং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রোববার (১১ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ও দুপুরে ৫৩ জন মিয়ানমার নাগরিককে আটক করেছে। আটককৃতদের মধ্যে বেশিরভাগই রোহিঙ্গা এবং তারা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে সীমান্ত থেকে ছোড়া স্ট্রে বুলেটে হোয়াইক্যংয়ে খেলতে থাকা এক ১১-১২ বছর বয়সী শিশু আফনান গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিছু অনানুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে শিশুটির মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্য এসেছে, তবে তা নিশ্চিত নয়।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি দীর্ঘদিন ধরে রাখাইন স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। সম্প্রতি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো জান্তা সরকারের পক্ষে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে লড়াই করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই সংঘর্ষে ড্রোন হামলা, ভারী অস্ত্র, মর্টারশেল এবং বিমান হামলা ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে অনেকে প্রাণ বাঁচাতে নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ও দুপুরে হোয়াইক্যং সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের সময় ৫৩ জনকে আটক করা হয়। হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই খোকন কান্তি রুদ্র জানিয়েছেন, আটকদের পরিচয় যাচাই-বাছাই চলছে। পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিজিবি এবং পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়েছে।
সীমান্তে বুলেট ও সড়ক অবরোধ
শিশু আফনানের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে টেকনাফ-কক্সবাজার হাইওয়ে অবরোধ করে প্রতিবাদ করেছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। গত তিন-চার দিন ধরে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দে এলাকাবাসী আতঙ্কিত। একইদিন বিকেলে আরো ২জন বাংলাদেশী গুলিবিদ্ধ হয়েছে, তাদের কক্সবাজার মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং অনুপ্রবেশ রোধে অভিযান চলমান।
এ ঘটনা বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং রোহিঙ্গা সংকটকে নতুন করে উত্তপ্ত করেছে। সীমান্তবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।






