ওআইসিতে বাংলাদেশ: সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে কোনো আপস নয়

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

ওআইসি সদস্য দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব অটুট রাখতে দৃঢ় অবস্থান: বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।

টুইট ডেস্ক: ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-এর সদস্য দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব, ঐক্য এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা প্রশ্নে কোনো প্রকার আপস করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।

সোমালিয়ার সোমালিল্যান্ড অঞ্চলকে ইসরায়েলের স্বীকৃতি প্রদানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওআইসির জরুরি অধিবেশনে এই অবস্থান ব্যক্ত করেন তিনি।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওআইসির কাউন্সিল অব ফরেন মিনিস্টার্সের ২২তম বিশেষ অধিবেশনে অংশ নিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখা, সদস্য দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও সংহতি রক্ষায় ওআইসির সম্মিলিত সংকল্পের সঙ্গে বাংলাদেশ সম্পূর্ণরূপে একাত্ম রয়েছে।”

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব কোনোভাবেই আপসযোগ্য নয়। অবৈধ আলোচনা ও উদ্যোগ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয় এবং ন্যায়বিচার, আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপাক্ষিকতাই একতরফা সিদ্ধান্ত ও চাপের রাজনীতির ওপর প্রাধান্য পাবে।”

এই জরুরি অধিবেশন আহ্বান করা হয় সোমালিয়ার সোমালিল্যান্ড অঞ্চলকে ইসরায়েলের স্বীকৃতি দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে, যা সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে চ্যালেঞ্জ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫-এ ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, যা আন্তর্জাতিকভাবে একমাত্র দেশ হিসেবে এমন করেছে। এই সিদ্ধান্তকে ওআইসি সদস্য দেশগুলো স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।

অধিবেশনে ওআইসির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, ইসরায়েলের এই স্বীকৃতিকে নিন্দা করতে হবে এবং সোমালিয়ার সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করতে হবে। এছাড়া, ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি অব্যাহত সংহতি প্রকাশ করা হয় বৈঠকে। ওআইসির ২১টি সদস্য দেশ যৌথ বিবৃতিতে এই স্বীকৃতিকে নিন্দা করেছে এবং সোমালিয়ার ঐক্য রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়েছে।

এই ঘটনা আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও তীব্র করেছে। আফ্রিকান ইউনিয়ন (এইউ)ও ৬ জানুয়ারি একটি জরুরি অধিবেশন করে এই বিষয়ে আলোচনা করেছে, এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেও এ নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। আরব ও ইসলামি দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে আরও চাপের মুখে ফেলেছে।

বাংলাদেশের এই অবস্থান ওআইসির লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা মুসলিম বিশ্বের ঐক্যকে প্রাধান্য দেয়। অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিরাও সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সমর্থন জানিয়েছেন।