ফটিকছড়িতে গুলিতে যুবক হত্যা: ফেসবুক পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন

ফটিকছড়িতে গুলিতে যুবক নিহত: তদন্তে নতুন তথ্য, সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট ঘিরে আলোচনা!
টুইট ডেস্ক: চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় দুর্বৃত্তের গুলিতে জামাল উদ্দিন নামে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় তদন্তে নতুন দিক সামনে এসেছে। এ ঘটনায় আরেকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখছে এবং সব সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর দীঘিরপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় জামাল উদ্দিন ও নাসির উদ্দিন দীঘির পাড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ মোটরসাইকেলে করে আসা কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জামাল উদ্দিন ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত নাসির উদ্দিনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। নিহত জামাল উদ্দিনের বয়স ৩০-এর কোঠায় বলে জানা গেছে। তিনি ওই এলাকার বশরত আলী মিস্ত্রি বাড়ির বাসিন্দা।
লেলাং ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সারোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রাতের আঁধারে বহিরাগত কিছু সশস্ত্র ব্যক্তি গুলি চালিয়ে পালিয়ে গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। কেন এই হামলা, কারা জড়িত—সব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ফটিকছড়ি থানার তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, নিহত জামাল উদ্দিনের সঙ্গে অতীতে একটি রাজনৈতিক সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে আলোচনা রয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, রাজনৈতিক বিরোধ, ব্যক্তিগত শত্রুতা কিংবা স্থানীয় আধিপত্য—সব দিক বিবেচনায় রেখে তদন্ত এগোচ্ছে।
এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্ট ঘিরে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রাম নগরের এক রাজনৈতিক কর্মীর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ঘটনার সময়ের কাছাকাছি একটি পোস্ট দেওয়া হয়, যেখানে নিহতের পরিচয় ও ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য করা হয়। পোস্টটির সময় ও তথ্যের উৎস নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আজিজ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টের সময়, তথ্য কোথা থেকে এসেছে—এসব বিষয় ডিজিটাল প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
ঘটনাস্থলটি নির্জন হওয়ায় আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।






