আইসিই প্রতিবাদে ইলহান ওমর: মিনিয়াপলিসে উত্তাল পরিস্থিতি

আইসিই অভিযানের বিরুদ্ধে মিনিয়াপলিসে উত্তাল বিক্ষোভ।

র্বিশ্ব ডেস্ক: মিনেসোটার মিনিয়াপলিসে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বিরোধী চলমান বিক্ষোভে সরাসরি যোগ দিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর (ডেমোক্র্যাট–মিনেসোটা)।

৭ জানুয়ারি এক আইসিই অভিযানে রেনি নিকোল গুড নামে এক মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পর থেকেই এ প্রতিবাদ তীব্র আকার ধারণ করে।

ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে চালু হওয়া ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’-এর অংশ হিসেবে মিনেসোটায় দুই হাজারের বেশি আইসিই এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে। ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে এ পর্যন্ত দেড় হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছে বলে অভিযোগ। প্রতিবাদকারীদের দাবি, এ অভিযান মূলত সোমালি-আমেরিকান সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হচ্ছে।
৭ জানুয়ারি আইসিই এজেন্ট জোনাথান রসের গুলিতে রেনি নিকোল গুড নিহত হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর টিম ওয়ালজ ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেন।

১০ জানুয়ারি ইলহান ওমর, কংগ্রেস সদস্য অ্যাঞ্জি ক্রেইগ ও কেলি মরিসন মিনিয়াপলিসের বিশপ হেনরি হুইপল ফেডারেল বিল্ডিংয়ে অবস্থিত আইসিই সুবিধা পরিদর্শনে যান। কংগ্রেসনাল ওভারসাইটের অংশ হিসেবে তারা সেখানে প্রবেশ করলেও ১০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে ফেডারেল কর্মকর্তারা তাদের বের করে দেন।

এ ঘটনাকে “অবৈধ” ও “কংগ্রেসের সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন” বলে মন্তব্য করেন ইলহান ওমর। ভবনের বাইরে বেরিয়ে তিনি সরাসরি প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে যোগ দেন এবং এক পর্যায়ে পিকআপ ট্রাকের পেছনে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখেন।

তিনি বলেন, “আমরা এখানেই থাকব। তারা সোমালিদের ভয় দেখাতে, অপহরণ করতে এবং ডিপোর্ট করতে এসেছে।”

প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেয়। একাধিক সড়ক অবরোধ করা হয় এবং কিছু স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। প্রায় ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও সমালোচকরা এটিকে ‘দাঙ্গা’ বলছেন, আয়োজকদের দাবি—এটি মূলত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ।

নাগরিকত্ব বাতিল ও বিতর্ক

ডানপন্থী কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে ‘আইসিই এজেন্টদের বিরুদ্ধে উসকানি’ দেওয়ার অভিযোগ তুলে তার নাগরিকত্ব বাতিল ও ডিপোর্টের দাবি জানাচ্ছেন। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০০০ সালে ন্যাচারালাইজড মার্কিন নাগরিক হওয়ায় এ ধরনের দাবি বাস্তবায়ন আইনগতভাবে অত্যন্ত কঠিন।

ওমরের সমর্থকদের মতে, তিনি কংগ্রেস সদস্য হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করছেন এবং অভিবাসী সম্প্রদায়ের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় অবস্থান নিয়েছেন।

এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা এবং রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও গভীর করেছে।