রাজশাহীতে বিপুল পরিমান অস্ত্রসহ জামায়াতের শ্রমিক নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে জামায়াতে ইসলামীর সহযোগি সংগঠন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের তিন নেতাকর্মীকে বিপুল পরিমান অস্ত্র গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী। শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে নগরীর নতুন বিলসিমলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের রাজপাড়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ৩ নং ওয়ার্ড সভাপতি চাঁন সওদাগর এবং তার দুই সহযোগি মুরাদ ও বিদ্যুৎ। এদের মধ্যে চাঁন সওদাগরের বিরুদ্ধে ১৯টি মামলা। এ সব মামলা বিচারাধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাজপাড়া থানার ওসি আব্দুল মালেক জানান, গ্রেপ্তার শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতা চাঁন সওদাগরের বাড়ি পবা উপজেলার নওদাবিল গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুর রউফ। তিনি নগরীর নতুন বিলসিমলা এলাকায় বসবাস করেন। এলাকায় তিনি জামায়াত নেতা হিসেবে পরিচিত। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে চাইনিজ কুড়াল, রামদা ও ছোরাসহ বেশী কিছু ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
ওসি বলেন, চাঁন সওদার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে হত্যা, বিস্ফোরক, অস্ত্র এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে তার বিরুদ্ধে রাজপাড়া, বোয়ালিয়া ও শাহ মখদুম থানায় ১৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে রাজপাড়া থানায় ১২টি, বোয়ালিয়া থানায় ছয়টি এবং শাহ মখদুম থানায় একটি। সে রাজশাহী মহানগর ও আশপাশের এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত।
জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরের সাংগঠনিক সেক্রেটারী জসিম উদ্দিন সরকার বলেন, ‘চান সওদাগর আমাদের মিছিল-মিটিংয়ে আসত। কিন্তু দলে তার কোনো পদ-পদবী নেই।’
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের রাজশাহী মহানগরের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুস সালাম বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে জেলে থাকা অবস্থায় চান সওদাগরের সঙ্গে আমার পরিচয়। আমাকে সম্মান করত। শুনেছি চাঁন সওদাগরকে সন্দেহমূলক আটক করা হয়েছে এবং তাকে পেটানো হয়েছে।’
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনে চান সওদাগরের কোনো পদ-পদবী নেই দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সংগঠনের ওয়ার্ড পর্যায়ে কোনো কমিটি নেই। তবে থানা কমিটি আছে। থানা কমিটির অধীনে বিভিন্ন ওয়ার্ডে থাকা ট্রেড ভিত্তিক কিছু কমিটি আছে।’

রাজশাহী মহানগরীর ২৪ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রহিম মামুন।
এদিকে, রাজশাহী মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’-এর অংশ হিসেবে মেট্রোপলিটন এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে আরএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আরএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) গাজিউর রহমান জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহিম মামুন রয়েছেন। তিনি নগরীর ২৪ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। নগরীর পঞ্চবটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি ২৫ জনের মধ্যে ওয়ারেন্টভূক্ত আসামী সাতজন, মাদক মামলায় একজন এবং বিভিন্ন অপরাদে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।






