তারেক রহমানের রাজনৈতিক সড়কযাত্রা: একজন সাধারণ কর্মী থেকে বিএনপির চেয়ারম্যান হয়ে ওঠার গল্প

স্পেশাল নিউজ টুইট ডেস্ক: ঢাকার রাজনৈতিক মহলে একযুগেরও বেশি সময় ধরে আলোচিত ও বিতর্কিত চরিত্র তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (BNP) চেয়ারপারসন পদে অভিষিক্ত হয়েছেন। তাঁর রাজনীতির শুরু, পারিবারিক প্রভাব, নির্বাসন, দেশে প্রত্যাবর্তন ও সর্বশেষ শীর্ষ নেতৃত্বে আসার পুরো গল্পটা যেন বাংলাদেশ রাজনীতির একটি অধ্যায়ের মতন।

রাজনীতির সূচনা পরিবার ও পরিশ্রমের মিশ্রণ-

তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনীতির এক পরিচিত মুখ; তিনি জাতির অন্যতম প্রবীণ রাজনীতিক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া উর রহমান ও বিশিষ্ট নেত্রী ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে হিসেবে ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন (বাবা দেশের মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন)।

রাজনীতির সঙ্গে তাঁর আনুষ্ঠানিক পরিচয় শুরু হয় ১৯৮৮ সালে, যখন তিনি ২২ বছর বয়সে BNP‑র গাবতলি উপজেলা শাখার সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দেন। এটি ছিল তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার প্রথম পদক্ষেপ, যেখানে তিনি স্থানীয় সংগঠন গঠন ও জনসংযোগে কাজ করতে শুরু করেন।

পরের বছর ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে, তিনি দলের পক্ষে প্রচারণা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং তখন থেকেই জাতীয় রাজনৈতিক ফরম স্থানীয় থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে-চলার পথে পদচারণ শুরু হয়।

দলে দায়িত্ব ও নেতৃত্বে উত্তরণ:

২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে BNP কেন্দ্রীয়ভাবে সরকার গঠন করলে তারেক রহমান দল ও নির্বাচনী পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলেছে।

২০০২ সালে তিনি BNP‑র সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পান। এরপর তিনি ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক সম্মেলন ও দল পুনর্গঠনে মনযোগ দেন; এতে BNP‑র সাধারণ সদস্য ও নেতৃবৃন্দের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়।

২০০৯ সালের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তিনি নির্বাচন পেয়ে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন এবং ২০১৬ সালের ষষ্ঠ কাউন্সিলে দলের শীর্ষ নীতিনির্ধারক ফোরামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

শক্তি ও কাঁটা-নির্বাসন এবং আলাদা পথ–

২০০৭‑২০০৮ সালের সময়ে সামরিক‑সমর্থিত সরকারের সময় দেশজুড়ে রাজনৈতিক চাপ ও আইনি তদন্তের মুখে পড়ে তারেক রহমান গ্রেফতার হন এবং পরে চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডনে চলে যান, যা প্রায় ১৭ বছর স্থায়ী নির্বাসনে পরিণত হয়।

এ সময় তিনি শারীরিক উপস্থিত না থাকলেও দলের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণ, কৌশল ও নির্বাচনী পরিকল্পনা পরিচালনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ২০০৮ সালে তিনি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ২০১৮ থেকে BNP‑র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দেশে প্রত্যাবর্তন ও চেয়ারপার্সনে অভিষেক:

২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তিনি প্রায় *১৭ বছর পর দেশে ফিরে আসেন, যেখানে হাজার হাজার সমর্থক তাকে পতাকা, ফুল ও স্লোগানে বরণ করেন; এটিই ছিল তার রাজনৈতিক জীবনের একটি মাইলফলক মুহূর্ত।

দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব ও দলের সাংবিধানিক শর্ত অনুযায়ী ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫‑এ খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর চেয়ারম্যানের পদটি শূন্য হয়ে পড়ে।

তারপর ৯ জানুয়ারি ২০২৬‑এ BNP‑র জাতীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির জরুরি সভায় তারেক রহমানকে একমতভিত্তিতে দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত/নিয়োগ করা হয়, যা আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নেতা হিসেবে নতুন অধ্যায় শুরু করে।