বান্দরবানে অনুকূলচন্দ্রের ৫৫তম বনভোজন উৎসব অনুষ্ঠিত

বিহার মেঘলায় প্রায় ৩০০ সৎসঙ্গীর মিলনমেলায় ধর্মীয় উল্লাস ও সেবার আবহ!

বান্দরবান প্রতিনিধি: পাহাড়ি জেলা বান্দরবানের সৎসঙ্গ বিহার মেঘলায় গতকাল শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দিনব্যাপী ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ৫৫তম বনভোজন উৎসব। এতে প্রায় ৩০০ জন সৎসঙ্গী অংশগ্রহণ করেন।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা মেঘলার পরিবেশে আয়োজিত এ উৎসব সৎসঙ্গীদের জন্য এক অনন্য মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়।

উৎসবজুড়ে ধর্মীয় সভা, বাণী প্রচার, ভজন-সংগীত এবং সেবা কার্যক্রমের মাধ্যমে ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের আদর্শ ও দর্শন স্মরণ করা হয়। দুপুরে প্রসাদ বিতরণ করা হলে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আধ্যাত্মিক আনন্দ ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও গভীর হয়।

নীলাচল পর্যটন এলাকার নিকটবর্তী সৎসঙ্গ বিহার মেঘলা—পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে মার্বেলখচিত সাদা মন্দিরসদৃশ স্থাপনা—এই উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। দিনভর শতশত সৎসঙ্গী ও দর্শনার্থী গেটে সারিবদ্ধভাবে প্রবেশ করেন, যা উৎসবের প্রাণচাঞ্চল্য বাড়িয়ে তোলে।

উৎসবের আয়োজক অসীম রায় (অশ্বিনী) বলেন, “ঠাকুরের চরণে আত্মমুক্তির সাধনায় আমরা একত্রিত হয়েছি। এটি কেবল একটি উৎসব নয়; ঠাকুরের যাজন-পরিক্রমা ও দর্শনকে জীবন্ত রাখার এক শক্তিশালী মাধ্যম।”

তিনি জানান, বনভোজন দিবস সৎসঙ্গীদের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

ফেসবুক পেজ ‘সৎসঙ্গ বিহার মেঘলা’ সূত্রে জানা যায়, এবারের আয়োজনে ধর্মীয় সভা, ভজন-সংগীত ও সেবামূলক কার্যক্রম বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। অনেক সৎসঙ্গী এ দিনটিকে ভবিষ্যতে ‘বিশ্ব বনভোজন দিবস’ হিসেবে পালনের প্রস্তাবও উত্থাপন করেন।

বনভোজন উৎসবের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র (১৮৮৮–১৯৬৯) সৎসঙ্গের প্রতিষ্ঠাতা; তিনি একজন প্রখ্যাত চিকিৎসক, দার্শনিক ও গুরু হিসেবে পরিচিত। তাঁর জন্মতিথি ২১ ফেব্রুয়ারি হলেও অনুসারীরা ৯ জানুয়ারিকে বনভোজন উৎসব হিসেবে পালন করে আসছেন। এই উৎসব ঠাকুরের জীবন, দর্শন ও মানবকল্যাণমূলক শিক্ষাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে, যা সৎসঙ্গীদের মধ্যে আধ্যাত্মিকতা, সেবা ও ঐক্যের প্রতীক।
সৎসঙ্গ সংস্থার সদর দপ্তর পাবনা জেলার হিমাইতপুর গ্রামে অবস্থিত। দেশ-বিদেশে সৎসঙ্গের বিস্তার ঘটেছে; ত্রিপুরা, বেঙ্গালুরু, বালাসোরসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত অনুরূপ বনভোজন উৎসব পালিত হয়—যা সৎসঙ্গের বিশ্বব্যাপী প্রভাবকে নির্দেশ করে।

বার্ষিক এই বনভোজন উৎসব ধর্মীয় অনুশীলনের পাশাপাশি সামাজিক ঐক্য ও মানবসেবার বার্তা ছড়ায়। পাহাড়ি জনপদ বান্দরবানে এমন আয়োজন স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি, সহমর্মিতা ও আধ্যাত্মিক চেতনাকে আরও শক্তিশালী করে।