পুলিশের ১০ লাখ টাকা আদায়ের মিশন কাণ্ডে আরএমপিতে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে এক কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে টার্গেট করেছিল আটজনের “টাকা আদায়ের চক্র।” তালিকায় ছিলেন ওসি, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত), তিনজন কনস্টেবল, ওসির গাড়িচালক, একজনের স্ত্রী আর কথিত সামাজিক সংগঠক ও তার স্ত্রী। কিন্তু আদায়ের আগে বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় তাদের ১০ লাখ টাকার মিশন ফ্লপ।

ঘটনা ফাঁস হতেই আরএমপিতে তোলপাড় শুরু হয়। তিন কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে, আর ওসি-সহ পুলিশ পরিদর্শককে বদলি করা হয়েছে। সবাই আগে কাশিয়াডাঙ্গা থানায় কর্মরত ছিলেন। আরএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হাফিজুর রহমান এই কাণ্ডের তদন্ত করছেন।

প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরিচালক মারুফ হোসেন জানান, ১ সেপ্টেম্বর প্রশিক্ষণ উদ্বোধনে কাশিয়াডাঙ্গা থানার ওসি আজিজুল বারী প্রধান অতিথি ছিলেন। তিন দিন পরই থানা থেকে ফোন আসে- “তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে।” অভিযোগ না জানিয়ে চাপ দেওয়া হয় ১০ লাখ টাকার।

ওসি তদন্ত আবদুল আজিজ মন্ডল, গাড়িচালক সোহেল রানা আর কনস্টেবল মাহবুব বারবার হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে মারুফকে টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। কিন্তু প্রশিক্ষণার্থী সীমা খাতুন মারুফকে বলে, “ওদের কাছে আসলে প্রমাণ নেই, তারা ৫ লাখ চাইছে।”

আজিজ মন্ডল ফোনে মারুফকে দেখা করার জন্য চাপ দেয়- “অভিযোগকারীর সঙ্গে বসতে হবে, মীমাংসা করতে হবে।” কিন্তু মারুফ বলেন, তার কাছে যে টাকা চাওয়া হয়েছে তা নেই। মারুফ ভিডিও করে রাখেন এবং দেখা যায় কনস্টেবল মাহবুব ও ওসির গাড়িচালক সোহেলও টাকার জন্য ফোন করছেন। ৭ ডিসেম্বর মাহবুব ও সোহেল ১০ হাজার টাকাও নিয়ে যান, যা মারুফ ভিডিও করেছেন। টাকা নেওয়ার পর দুই কনস্টেবলকে দুদিনের মধ্যে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। সীমা খাতুনের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় তার স্বামী সাইফুজ্জামানকেও প্রত্যাহার করা হয়।

মারুফ বলেন, মূল চালাকি ছিল প্রশিক্ষণার্থী সীমা খাতুনের। তিনি কনস্টেবল স্বামীকে দিয়ে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন। মারুফ দাবি করেন, তাদের বিরুদ্ধে যে যৌন হয়রানি ও ইচ্ছাকৃত ফেলের অভিযোগ, তা মিথ্যা। এটা টাকা হাতানোর জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

ওসি আজিজুল বারীর নামও এসেছে অভিযোগে। মারুফ বলছেন, তিনি বারবার ওসি তদন্ত ও কনস্টেবলদের সঙ্গে কথা বলেন। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে দুই কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে, কিন্তু ওসি-দুটিকে শুধু বদলি করা হয়েছে।

আবদুল আজিজ মন্ডল টাকা চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং ফোনকল রেকর্ড নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। ওসি আজিজুল বারী বলেছেন, “আমি যুক্ত নই। কেউ আমার নাম ভাঙিয়ে চেষ্টা করলে দায়ভার তাদের।”

আরএমপির মুখপাত্র গাজিউর রহমান বলেন, অভিযোগ নেওয়া হয়েছে, তদন্ত চলছে। প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া ব্যক্তিদের থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।