প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইসসহ আটক ১১

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুড়িগ্রাম: প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা শুরুর আগে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে অসাধু উপায়ে উত্তর সংগ্রহের প্রস্তুতিকালে বিশেষ প্রযুক্তিসম্পন্ন ডিভাইসসহ প্রক্সি পরীক্ষার্থীসহ ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে নাগেশ্বরী উপজেলার একটি পরীক্ষা কেন্দ্রের পাশের একটি বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মিনারুল ইসলাম নামে একজন রয়েছেন, যিনি নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি আসন্ন বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী বলেও জানা গেছে।
অন্য আটকরা হলেন, আব্দুল লতিফ, শাহজামাল, বাবু ইসলাম, জান্নাতুন নাইম, আরিফুজ্জামান সিদ্দিকি, হিমেল মাহমুদ, চামেলী আক্তার, বেলাল হোসেন ও আনেয়ার হোসেন।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হিল জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রথমে ছয়জনকে আটক করা হয়। পরে আরও পাঁচজনকে আটক করে মোট ১১ জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডিজিটাল ডিভাইস, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্রের কপি উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন প্রক্সি পরীক্ষার্থীও রয়েছে। অভিযান ও তদন্ত এখনো চলমান বলে জানান তিনি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় জানান, শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী, উলিপুর ও সদর উপজেলার ৩৮টি কেন্দ্রে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন ২৪ হাজার ২৭৪ জন পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত রাখতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। প্রতি ২৫ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন পরিদর্শক, প্রতিটি কেন্দ্রে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি কেন্দ্রের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
ঘটনার পর জেলার অন্যান্য পরীক্ষা কেন্দ্রেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বা বিভ্রান্তি এড়াতে কর্তৃপক্ষ সতর্ক রয়েছে বলে জানান তিনি।
নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন জাহান লুনা জানান, আটক ১১ জন বর্তমানে থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।






