তারাগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের দীর্ঘদিনের অনিয়মে দুর্ভোগে গ্রাহকরা

মিটার রিডিং ছাড়াই বিল, ঘুষ ছাড়া সংযোগ নয়—পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের অনিয়মে অতিষ্ঠ সাধারণ গ্রাহকরা।
আব্দুল্লাহিল শাহীন, তারাগঞ্জ (রংপুর): রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আওতাধীন তারাগঞ্জ সাব-জোনাল অফিসে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকরা।
নিয়মিত মিটার রিডিং না নেওয়া, অনুমানভিত্তিক অতিরিক্ত বিল প্রস্তুত, বিল পরিশোধের পরও সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং পুনঃসংযোগের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট অফিসের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে মাসের পর মাস মিটার রিডিং না নিয়েই ইচ্ছেমতো বিল নির্ধারণ করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত ব্যবহারের তুলনায় বেশি বিল পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
কুর্শা ইউনিয়নের ঝারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাহেব আলী জানান, তার বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের শেষ তারিখ ছিল ৭ জানুয়ারি ২০২৬। ওই দিন ব্যাংকে বিল পরিশোধ করতে গেলে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই তার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে অফিসে গিয়ে কারণ জানতে চাইলে দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে কোনো স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি। এতে তার পরিবার, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক সদস্যরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
একই ইউনিয়নের গ্রাহক পারভিন অভিযোগ করে বলেন, বিল পরিশোধের রশিদ দেখানোর পরও মাঠপর্যায়ের কর্মীরা পুনঃসংযোগ দিতে ‘লাইন চার্জ’ বা ‘খরচ’-এর নামে অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, উপজেলার কিছু বড় ব্যবসায়ী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিপুল অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্টদের উৎকোচের বিনিময়ে তাদের সংযোগ বহাল রাখা হচ্ছে। অথচ সাধারণ ও দরিদ্র গ্রাহকরা সামান্য বিল জটিলতায়ও সংযোগ বিচ্ছিন্নের শিকার হচ্ছেন।
ইকোরচালী ইউনিয়নের দোহাজারি গ্রামের গ্রাহক সবুজ মিয়া বলেন, “যারা টাকা দিয়ে ম্যানেজ করতে পারে, তাদের জন্য নিয়ম শিথিল। আর নিয়ম মেনে চলা গ্রাহকরাই বেশি হয়রানির শিকার হয়।”
গ্রাহকদের অভিযোগ, সাব-জোনাল অফিসে কোনো কার্যকর গ্রাহক সেবা বা অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা নেই। সমস্যা জানাতে গেলে অনেক সময় দুর্ব্যবহার ও অবহেলার মুখে পড়তে হয়। একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের জিম্মি করে অনৈতিক সুবিধা আদায় করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে তারাগঞ্জ সাব-জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. শরিফ লেহাজ আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কিছু সমস্যা থাকতেই পারে।” তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দিতে তিনি রাজি হননি।
এদিকে সচেতন মহল দ্রুত অনিয়মের তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গ্রাহকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করার দাবি






