নওগাঁর রাণীনগরে ফের গরু-ছাগল চুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক: নওগাঁর রাণীনগরে আবারও গরু-ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাতে উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়নের চান্দারপুকুর গ্রামে এক কৃষকের গোয়ালঘর থেকে প্রায় আড়াই লাখ টাকা মূল্যের গরু ও ছাগল চুরি হয়। একের পর এক চুরির ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী কৃষক ইয়াছিন আলী বাবুর ছেলে সিহাব হোসেন জানান, বুধবার রাতে বাড়ির পাশে গোয়ালঘরে গরু-ছাগল রেখে তালা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখেন বাড়ির মূল ফটক বাইরে থেকে আটকানো। প্রতিবেশীদের সহায়তায় বাইরে বের হয়ে গোয়ালঘরে গিয়ে দেখতে পান তালা কাটা এবং প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের দুটি গরু ও প্রায় ৪০ হাজার টাকা মূল্যের তিনটি ছাগল চুরি হয়ে গেছে।
খবর পেয়ে সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সিহাব হোসেন আরও জানান, এর আগেও একই এলাকার প্রতিবেশী খুবসুরত আলীর গোয়ালঘর থেকে দুটি মহিষ ও একটি গরু চুরি হয়।
খুবসুরত আলীর ছেলে আব্দুল খালেক বলেন, গত ২৫ আগস্ট তাদের গোয়ালঘরের তালা কেটে প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের দুটি মহিষ এবং এক লাখ টাকা মূল্যের একটি গরু চুরি করা হয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো মালামাল উদ্ধার হয়নি। এর মধ্যেই বুধবার রাতে আবারও প্রতিবেশীর গরু-ছাগল চুরির ঘটনা ঘটায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ ডিসেম্বর রাতে উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামে মারুফ হোসেনের তিনটি গরু চুরি হয়। একই দিন ভোরে আবাদপুকুর বাজারে ধান ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হকের ক্যাশবাক্স থেকে পাঁচ লাখ ৩৪ হাজার টাকা এবং একই বাজারের আরেক ব্যবসায়ী ফরিদ উদ্দীনের মোটরসাইকেল থেকে চার লাখ ৬৪ হাজার টাকা চুরি হয়। এছাড়া গত ২৬ ডিসেম্বর রাতে জলকৈ গ্রামে ফিরোজ সরদারের গোয়ালঘর থেকে একটি ষাঁড় গরু চুরির ঘটনাও ঘটে।
একাধিক চুরির ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত চুরি যাওয়া গরু-মহিষ বা টাকা উদ্ধার এবং জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
রাণীনগর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) বাবলু চন্দ্রপাল বলেন, চান্দারপুকুর এলাকায় গরু-ছাগল চুরির খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।






