ভারত–চীনের ওপর শুল্কের হুমকি, ট্রাম্পের বিল অনুমোদন

ট্রাম্পের সমর্থনে রাশিয়া: নিষেধাজ্ঞা বিল অনুমোদন, রাশিয়ার তেল কিনা দেশগুলোকে জরিমানা ও ট্যারিফের লক্ষ্য।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি একটি দ্বিপক্ষীয় রুশ তেল নিষেধাজ্ঞা বিলকে সমর্থন জানিয়েছেন। এটি রাশিয়ার তেল ও শক্তি পণ্য আমদানি চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোর ওপর কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব ।
এতে উল্লেখযোগ্যভাবে ভারত ও চীনসহ ব্রাজিলকে লক্ষ্য করা হয়েছে। রাশিয়া শক্তি রপ্তানির বড় বাজার।
বিলের মূল উদ্দেশ্য ও প্রস্তাবিত পদক্ষেপ
Sanctioning Russia Act of 2025 নামে পরিচিত এই বিলটি দীর্ঘদিন ধরেই কংগ্রেসে থাকা একটি প্রস্তাব। এটি পারস্পরিক সহমত অর্জন করে আবার এগোতে পারে বলে জানিয়েছেন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম, যিনি ট্রাম্পের সাথে আলোচনার পর “গ্রীনলাইট” পেয়েছেন।
বিলে সরকারকে এমন ক্ষমতা দেওয়া হতে পারে যাতে রাশিয়ার তেল ও শক্তি পণ্য আমদানি চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোর আমদানীর ওপর ৫০০% পর্যন্ত শুল্ক (ট্যারিফ) আরোপ করা যায়। এতে উল্লেখযোগ্যভাবে ভারত ও চীনসহ ব্রাজিলকে চাপ দেওয়া হবে, বলে আইনপ্রণেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
গ্রাহাম বলেন, “এই বিল প্রেসিডেন্টকে সেই দেশগুলোকে শাস্তি দিতে দেবে, যারা সস্তা রুশ তেল কিনে পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রকে চালায়।”
ভারতের ওপর প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, ভারত ও চীন রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের বড় ক্রেতা, যার কারণে রাশিয়ার অর্থনীতিকে শক্ত অবস্থানে রাখতে সাহায্য করে, বিশেষত ইউক্রেন যুদ্ধে।
ভারতের ক্ষেত্রে সরবরাহের চাপ বাড়ায়, শুল্ক বাড়ানোর মতো হুমকিও এসেছে—ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, যদি নয়াদিল্লি রাশিয়ার তেল কেনা কমাতে না পারে তবে আমেরিকা তার ওপর শুল্ক আরও বাড়াতে পারে।
এর প্রেক্ষিতে ভারতের রাশিয়া থেকে তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে; সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতের প্রধান রিফাইনারিতে গত কয়েক সপ্তাহে রুশ তেলের সরবরাহ প্রায় না এমন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
তবে ভারত সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিলের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেয়নি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন সরকারের মধ্যে উভয় পক্ষই কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষত আমেরিকার শুল্ক নীতি ও ভারতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার ভারসাম্য রক্ষায়।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রায় চার বছর অতিক্রম করেছে। পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার শক্তি খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও ভারত ও চীন এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও শক্তি আমদানি করছে। বিলটি ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ভারতের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে, যার ফলে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কেও কিছু চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিলটি কংগ্রেসে ভোটের জন্য উপস্থাপন হলে তা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা, শক্তি বাজার ও কূটনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে—বিশেষত যখন ইউক্রেনের শান্তি আলোচনা তীব্র অবস্থানে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সহ পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে চাচ্ছে।






