এসটিসি নেতা আল-জুবাইদি ইউএইতে আশ্রয় নিয়েছেন

১৮ জানুয়ারি ২০২৪ দাভোসে ডব্লিউইএফ সভায় এএফপিকে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন ইয়েমেন সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট আইদারৌস আল-জুবাইদি। (ছবি: ফ্যাব্রিস কফ্রিনি/এএফপি)

ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা আইদারুস আল-জুবাইদি ইউএইতে পলায়ন। সৌদি-নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশনের দাবি, বাড়ছে সৌদি-ইউএই টানাপোড়েন।

বিশ্ব ডেস্ক: ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)-এর নেতা আইদারুস আল-জুবাইদি সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) পলায়ন করেছেন বলে দাবি করেছে সৌদি আরব-নেতৃত্বাধীন সামরিক কোয়ালিশন।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কোয়ালিশন জানায়, রিয়াদে নির্ধারিত শান্তি আলোচনায় অংশ না নিয়ে তিনি গোপনে দেশ ছেড়ে যান।

কোয়ালিশনের দাবি অনুযায়ী, আল-জুবাইদি বুধবার রাতে ইয়েমেনের এডেন শহর থেকে একটি নৌকায় করে সোমালিল্যান্ডের বেরবেরা বন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে তিনি বিমানে মোগাদিসু হয়ে আবু ধাবিতে যান। বিবৃতিতে বলা হয়, ওই বিমানটি ওমান উপসাগরের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দেয় এবং আবু ধাবির আল রিফ সামরিক বিমানবন্দরে অবতরণের প্রায় ১০ মিনিট আগে আবার চালু করা হয়।

সৌদি-নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন অভিযোগ করে, আল-জুবাইদি “অন্ধকারের আড়ালে পালিয়ে গেছেন” এবং এটি শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি তার অনাগ্রহের প্রমাণ। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত এসটিসি বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সৌদি-ইউএই বিভেদ আরও স্পষ্ট

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইয়েমেন সংকটে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত বিভেদ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইউএই-সমর্থিত এসটিসি দক্ষিণ ইয়েমেনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে। অন্যদিকে সৌদি আরব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে দেশটির ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার কথা বলছে।

গত ডিসেম্বরে এসটিসি বাহিনী সৌদি সীমান্তসংলগ্ন হাদরামাউত ও মাহরা প্রদেশের অংশবিশেষ দখল করলে সৌদি-নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন বিমান হামলা চালায়। একই সঙ্গে ইয়েমেন থেকে ইউএই সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। পরে ইউএই তাদের ‘কাউন্টারটেররিজম মিশন’ শেষ করার ঘোষণা দেয়।

রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ

কোয়ালিশনের অভিযোগ অনুযায়ী, রিয়াদে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে এসটিসি প্রতিনিধিদলের বিমানে ওঠার কথা থাকলেও আল-জুবাইদি শেষ মুহূর্তে তা এড়িয়ে যান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতা’র অভিযোগ আনা হয়েছে।

পাল্টা দাবি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি

এসটিসির একাধিক নেতা, যার মধ্যে আমর আল-বেইধ রয়েছেন, আবু ধাবি থেকে দাবি করেছেন—এডেন এখনও এসটিসির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আল-জুবাইদি নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরি না করতেই রিয়াদে যাননি।

এদিকে কোয়ালিশন আল-জুবাইদির জন্মস্থান আল-ধালে প্রদেশে ‘প্রিভেনটিভ’ বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাপ্রবাহ ইয়েমেনের রাজনৈতিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং হুথি বিদ্রোহীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স, বিবিসি