ঝিনাইদহে ভোটের উত্তাপ তুঙ্গে

ঝিনাইদহের চার আসন; বিএনপি-জামায়াতের জোর প্রচারে সরগরম ভোটের মাঠ।
টুইট ডেস্ক: আসন্ন সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ঝিনাইদহে জমে উঠেছে ভোটের মাঠ। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ অভ্যুত্থানপন্থি বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা নানা কর্মসূচি নিয়ে ছুটছেন গ্রাম-গঞ্জে। হোটেল, চা-দোকান, হাটবাজার—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ভোট। কে হচ্ছেন সংসদ সদস্য, কার পাল্লা ভারী—এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ ভোটারদের মুখে মুখে।
জেলার ছয় উপজেলা নিয়ে গঠিত চারটি সংসদীয় আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। অপরদিকে বিএনপিও চার আসনেই আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত প্রার্থীর নাম প্রকাশ করেছে। ফলে দুই দলের জোর প্রচারে পুরো জেলা এখন নির্বাচনী উত্তাপে টগবগ করছে। তবে একটি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগও চোখে পড়ছে।
ঝিনাইদহ-১ (শৈলকূপা)
এই আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় মানবাধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান, খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু এবং কেন্দ্রীয় কৃষক দলের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ওসমান আলী বিশ্বাস। শেষ পর্যন্ত ডিসেম্বরের শেষ দিকে দলীয় মনোনয়ন পান আসাদুজ্জামান।
মনোনয়ন না পেয়ে জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেননি। ফলে ভেদাভেদ ভুলে বিএনপির সব স্তরের নেতাকর্মী এখন ধানের শীষের পক্ষে মাঠে নেমেছেন।
জামায়াতে ইসলামী এ আসনে প্রার্থী করেছে শৈলকূপা উপজেলা আমির এএসএম মতিউর রহমানকে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রচারের সুযোগ পাওয়ায় তিনি এলাকায় শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন বলে দাবি দলটির নেতাকর্মীদের।
এছাড়া এবি পার্টি, জাতীয় পার্টি, বাসদ ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরাও প্রচারে রয়েছেন।
ঝিনাইদহ-২ (হরিণাকুণ্ডু ও সদর)
জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে বিএনপি প্রার্থী করেছে জেলা সভাপতি এমএ মজিদকে। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা গেছে। দিন-রাত পাড়া-মহল্লায় চলছে ধানের শীষের প্রচার। বিএনপির পুরনো ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতেই মরিয়া দলটি।
জামায়াত এখানে প্রার্থী করেছে জেলা আমির আলী আজম আবু বকরকে। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তিনি নিজেকে আস্থার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছেন। অনেকেই তাকে এই আসনের একজন হেভিওয়েট প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখছেন।
এছাড়া বাসদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, সিপিবি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরাও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
ঝিনাইদহ-৩ (মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর)
এই আসনটি জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। দলটি প্রার্থী করেছে জেলা সাবেক নায়েবে আমির ও কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যাপক মাওলানা মতিয়ার রহমানকে। প্রায় এক বছর ধরে প্রচার চালিয়ে তিনি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।
বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান রনি। তিনি প্রয়াত চারবারের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে। তবে মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির একাধিক হেভিওয়েট নেতার প্রত্যাশা থাকায় শুরুতে আলোচনা-সমালোচনাও ছিল।
এ আসনে গণঅধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও এবি পার্টির প্রার্থীরাও প্রচার চালাচ্ছেন।
ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের একাংশ)
এই আসনটি বিএনপি ছেড়ে দিয়েছে সদ্য দলে যোগ দেওয়া রাশেদ খানকে। তবে এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয় বিএনপির একাংশ। মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভও হয়। কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন।
জামায়াত এ আসনে প্রার্থী করেছে কালীগঞ্জ উপজেলা নায়েবে আমির মাওলানা আবু তালিবকে। প্রায় এক বছর ধরে চালানো প্রচারে ভোটারদের মধ্যে সাড়া মিলছে বলে দাবি জামায়াতের। বিএনপির অন্তর্কোন্দলকে তারা বাড়তি সুবিধা হিসেবে দেখছে।
অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও প্রচারে থাকলেও তা তুলনামূলকভাবে কম চোখে পড়ছে।






