রাজনৈতিক সহিংসতায় রক্তাক্ত দেশ: একের পর এক বিএনপি নেতাকর্মী হত্যাকাণ্ড

ঢাকা, যশোর ও চট্টগ্রামে ধারাবাহিক হামলা–হত্যা নিয়ে উদ্বেগ; দলীয় নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন?
টুইট প্রতিবেদক: বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা নতুন করে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর ধারাবাহিক হামলা ও হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
রাজধানী ঢাকা, যশোর ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো রাজনৈতিক নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।
ঢাকায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুসাব্বির নিহত
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে রাজধানীর ঢাকা মহানগর উত্তর এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বির গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। দলীয় সূত্র জানায়, তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ঢাকা উত্তরে যুবদল নেতাদের হত্যাকাণ্ড
এর আগে ঢাকা মহানগর উত্তর এলাকায় যুবদল সংশ্লিষ্ট সাম্য ও পারভেজ নামের দুই নেতাকে পৃথক ঘটনায় হত্যা করা হয় বলে বিএনপির অভিযোগ। এসব ঘটনায় এখনো দৃশ্যমান বিচারিক অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে।
যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যা
গত ৪ জানুয়ারি যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। স্থানীয় সূত্র জানায়, অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে, তবে এখনো কাউকে আটক করা হয়নি।
চট্টগ্রামে ১৫ মাসে অন্তত ছয়জন নিহত
বিএনপির দাবি অনুযায়ী, গত ১৫ মাসে শুধুমাত্র চট্টগ্রামেই দলটির অন্তত ছয়জন নেতাকর্মী রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনার মধ্যে দলীয় দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ উঠে এসেছে। তবে প্রতিটি ঘটনায় দায়ীদের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।
‘হাদী হত্যা’ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন
রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় রয়েছে—একজন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের হত্যাকাণ্ডে রাষ্ট্রযন্ত্র দ্রুত সক্রিয় হলেও বিএনপির একের পর এক নেতাকর্মী নিহত হলেও সে ধরনের রাষ্ট্রীয় তৎপরতা দৃশ্যমান নয়। এই বৈষম্য নিয়েই বিএনপি ও সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
বিএনপি নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা
ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের পর বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশের অভিযোগ— কেবল স্বল্প সময়ের প্রেস কনফারেন্সেই প্রতিবাদ সীমাবদ্ধ।
মাঠপর্যায়ে শক্ত রাজনৈতিক কর্মসূচির অভাব
নিহত নেতাকর্মীদের পরিবারগুলো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত।
যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দলটি ‘লাশের রাজনীতি’ করে না এবং গণতান্ত্রিক ও আইনগত পথেই প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে।
রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সহিংসতা বন্ধ না হলে আসন্ন নির্বাচন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিএনপির ভেতর থেকেও সতর্ক করে বলা হচ্ছে—এখনই রাজনৈতিক সহিংসতা ও উগ্র শক্তির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে না তুললে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
একাধিক অঞ্চলে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর ধারাবাহিক হামলা ও হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি অশুভ সংকেত।
নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা গেলে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আরও গভীর সংকটে পড়তে পারে।







