২৪ জুলাই–এর শহিদ যোদ্ধাদের পরিচয় শনাক্ত

ডিএনএ শনাক্তকরণ: নিখোঁজ শহিদদের পরিচয় ফিরিয়ে দেওয়ার পথে ডিএনএ শনাক্তকরণ।

টুইট ডেস্ক: ঢাকার রায়ের বাজারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা ১১৪ জনের মৃতদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এই কার্যক্রম বাংলাদেশ পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন বিভাগ (সিআইডি) পরিচালনা করেছো।

আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে তা হস্তান্তর করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই কার্যক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছে। ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলা কার্যক্রমে ইতোমধ্যেই ৯টি পরিবার ডিএনএ নমুনা প্রদান করেছে।

পরীক্ষার মাধ্যমে এর মধ্যে ৮ জন শহিদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। শনাক্ত শহিদরা হলেন: শহিদ সোহেল রানা (৩৮), শহিদ রফিকুল ইসলাম (৫২), শহিদ আসাদুল্লাহ (৩২), শহিদ মাহিন মিয়া (৩২), শহিদ ফয়সাল সরকার (২৬), শহিদ পারভেজ বেপারী (২৩), শহিদ কাবিল হোসেন (৫৮), এবং শহিদ রফিকুল ইসলাম (২৯)।

সিআইডি জানিয়েছে, কার্যক্রমের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে মানবাধিকার ও মানবিক কর্মকাণ্ডে ফরেনসিক বিজ্ঞানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ ড. মরিস টিডবাল বিনজ পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ প্রদান করেছেন।

সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় নিখোঁজ হওয়া পরিবারের সদস্যরা হটলাইন নম্বর ০১৩২০০১৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে পারেন।

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস কার্যক্রম হস্তান্তরের পরে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “তৎকালীন সরকার যে বর্বরোচিত ঘটনা ঘটিয়েছে, তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। নিজ দেশের নাগরিকদের হত্যা করে গণকবর দেওয়ার মতো ঘটনা কোনো সভ্য রাষ্ট্রে কল্পনাও করা যায় না।”

তিনি আরও বলেন, সত্য উদঘাটন এবং শহিদদের পরিচয় ফিরিয়ে দেওয়া এই উদ্যোগ নিখোঁজ পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়ের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এবং রাষ্ট্রের নৈতিক দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। “ডিএনএ শনাক্তকরণ প্রমাণ করে—সত্যকে চিরদিন চাপা দেওয়া যায় না। নিহতদের নাম ও পরিচয় ফিরে আসবে, আর তাদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরদিন লিপিবদ্ধ থাকবে।”

প্রধান উপদেষ্টা জানান, এই উদ্যোগ শুধু ফরেনসিক কার্যক্রম নয়; এটি নিখোঁজদের পরিবারের চোখের পানি মুছে দেওয়া, রাষ্ট্রের মানবিক মুখ পুনরুদ্ধার করা এবং ন্যায়বিচারের পথে সাহসী পদক্ষেপ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যারা এখনও প্রিয়জনের খোঁজে আছেন, তাদের জন্য এটি আশার আলো।

সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ বৈঠকে বলেন, একজন শহিদের মা নিয়মিত সিআইডির কাছে আসতেন। তিনি রায়ের বাজারে একটি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আশ্চর্যজনকভাবে ওই গাছের নিচেই তার সন্তানের লাশ পাওয়া গেছে। এছাড়া, ঘটনাস্থলেই ল্যাব তৈরি করে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, যা পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. কাজী গোলাম মোখলেসুর রহমান, সিআইডির ডিআইজি মো. জমশের আলী, ডিআইজি মিয়া মাসুদ করিম, এসএসপি মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, ডেপুটি চিফ ডিএনএ এনালিস্ট আহমাদ ফেরদৌস এবং জাতিসংঘে মানবাধিকার অফিসের প্রতিনিধি মো. জাহিদ হোসেন।

এই কার্যক্রম নিখোঁজ পরিবারের জন্য ন্যায় ও স্বজনদের পরিচয় ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।