যৌন নিপীড়নের অভিযোগে রাবি শিক্ষক সাগর স্থায়ীভাবে বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: যৌন নিপীড়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাদিকুল ইসলাম সাগরকে স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ৫৪৫তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ।
তিনি জানান, এর আগে সাময়িক বরখাস্ত থাকা সাদিকুল ইসলাম সাগরকে এখন স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বরখাস্তের নিয়ম অনুযায়ী তিনি পেনশনসহ কোনো ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন না।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের অনুসন্ধানে আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাঈদা আঞ্জুর নেতৃত্বে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন অধ্যাপক আব্দুল আলিম, অধ্যাপক শাহীন জোহরা, অধ্যাপক সালমা আক্তার ও অধ্যাপক পিটার। পাশাপাশি আইন বিভাগের ছয়টি ব্যাচ থেকে একজন করে ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীসহ মোট ১২ জন শিক্ষার্থীকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
তদন্ত শেষে কমিটি অভিযোগের সত্যতা পায় এবং প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করে। এর ভিত্তিতে সাময়িক বরখাস্ত থাকা সাদিকুল ইসলাম সাগরকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত শেষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট ১৯৭৩-এর ৫৫ (৩) ধারা অনুযায়ী আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশের আলোকে সিন্ডিকেট চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের পতনের পর সাদিকুল ইসলাম সাগরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পর আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা একাধিকবার আন্দোলনে নামেন। অভিযোগ যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি সত্যতা পাওয়ায় ওই বছরের ১ অক্টোবর তাকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।






