হেলিকপ্টার চুক্তিতে নতুন বিতর্ক: ভারত–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে চাঞ্চল্য

অ্যাপাচে হেলিকপ্টার সরবরাহ প্রসঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্য ঘিরে দিল্লি–ওয়াশিংটনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু ।
বিশ্ব ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ‘অ্যাপাচে’ যুদ্ধহেলিকপ্টার সরবরাহের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি তাকে ‘স্যার’ সম্বোধন করে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার অনুরোধ করেছিলেন।
ওয়াশিংটনে রিপাবলিকান পার্টির এক সভায় মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প এ দাবি করেন। তার এই মন্তব্য ঘিরে ভারত–যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং বাণিজ্যিক টানাপোড়েন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ট্রাম্প তার বক্তব্যে বলেন, ভারত বহু বছর আগে অ্যাপাচে হেলিকপ্টার অর্ডার করলেও দীর্ঘ সময় তা সরবরাহ পায়নি। তিনি বলেন,
“ভারত ৬৮টি অ্যাপাচে হেলিকপ্টার অর্ডার করেছিল। পাঁচ বছর ধরে তারা কিছুই পাচ্ছিল না। প্রধানমন্ত্রী মোদি আমার কাছে এসে বললেন, ‘স্যার, মে আই সি ইউ প্লিজ?’ (স্যার, আমি কি আপনার সঙ্গে দেখা করতে পারি?)। আমি বললাম, হ্যাঁ।”
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, এখন এই হেলিকপ্টার সরবরাহের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে এবং তিনি বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও বিভিন্ন সূত্রের মতে, ট্রাম্প তার বক্তব্যে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি করেছেন। কারণ ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপাচে হেলিকপ্টার চুক্তি ২০২০ সালে স্বাক্ষরিত হয় এবং এর আওতায় সরবরাহ প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী এরই মধ্যে ২২টি AH-64E অ্যাপাচে হেলিকপ্টার গ্রহণ করেছে।
কিছু সূত্র বলছে, ট্রাম্প সম্ভবত AH-64E অ্যাপাচে এবং CH-47 চিনুক হেলিকপ্টারের চুক্তি একসঙ্গে উল্লেখ করে ফেলেছেন। ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চিনুক হেলিকপ্টার চুক্তিও আগে স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং সেগুলোরও সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছে।
ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অ্যাপাচে হেলিকপ্টারের নতুন একটি চালানের বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে, তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে উল্লিখিত সংখ্যার সঙ্গে বাস্তব চুক্তির কিছু পার্থক্য রয়েছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র রপ্তানির কৌশল তুলে ধরছে, অন্যদিকে ভারত–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ব্যক্তিনির্ভর দিকটিও সামনে আনছে।






