এলপিজি গ্যাসের কৃত্রিম সংকট: অসাধু ডিলারের লাইসেন্স বাতিলের প্রস্তুতি

বাংলাদেশে এলপিজি গ্যাসের কৃত্রিম সংকট: সারাদেশে ভোক্তাদের ভোগান্তি, নজরদারি জোরদারের দাবি।

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সারাদেশে ভোক্তাদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও মজুদদার। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই সংকট চলমান থাকায় গৃহস্থালি রান্না থেকে শুরু করে হোটেল–রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সরকার বলছে, দেশে এলপিজির প্রকৃত কোনো সরবরাহ সংকট নেই; বরং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে দেশে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টন এবং ডিসেম্বরে প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে, যা আগের মাসগুলোর তুলনায় বেশি। ফলে সরবরাহে ঘাটতির কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। তা সত্ত্বেও ভোক্তারা সরকার নির্ধারিত ১২ কেজির সিলিন্ডারের মূল্য ১ হাজার ৩০৬ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৮০০ থেকে শুরু করে কোথাও কোথাও ২ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

রাজধানীসহ সারাদেশে সংকটের চিত্র

রাজধানী ঢাকায় এলপিজি সংকট সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে। ফার্মগেট, মোহাম্মদপুর ও সাভার এলাকায় অনেক ভোক্তাকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে সিলিন্ডার পাওয়ার জন্য। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় কিনছেন। আবার ৩৬ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম কোথাও কোথাও ৪ হাজার ৮০০ টাকায় পৌঁছেছে।

চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরেও একই চিত্র। গ্রামাঞ্চলে সরবরাহ আরও কম থাকায় দাম তুলনামূলক বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ভোক্তাদের।

বান্দরবানে প্রশাসনের অভিযান

এলপিজি গ্যাসের কৃত্রিম সংকটের অভিযোগে বান্দরবানে জেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়েছে। বনরূপা এলাকাসহ জেলা সদরের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে গুদামে অতিরিক্ত সিলিন্ডার মজুদ রাখার প্রমাণ পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা আদায় এবং মামলা দায়ের করেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

অসন্তোষ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে

এলপিজি সংকটের পাশাপাশি কুকিং অয়েলের সংকটও দেখা দেওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়েছে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি দিয়ে গ্যাস কিনতে হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের মধ্যে। অনেক পরিবার বিকল্প হিসেবে কাঠ বা চুলা ব্যবহারে ফিরতে বাধ্য হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়াচ্ছে।

সরকারের অবস্থান

সরকার বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সারাদেশে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে ভোক্তাদের হয়রানি করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

তবে ভোক্তাদের মতে, অভিযান আরও জোরদার না হলে সংকট দ্রুত কাটবে না। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—সরকারি কঠোর পদক্ষেপে দ্রুত এলপিজির বাজার স্বাভাবিক হবে এবং আবারও ন্যায্যমূল্যে গ্যাস কিনতে পারবে দেশবাসী।