সীমান্তবর্তী এলাকায় শীতার্ত মানুষের পাশে বিজিবি

আলীকদমে ৫৭ ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ।

বান্দরবান প্রতিনিধি: সারাদেশে তীব্র শীতের প্রকোপ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সবুজ পাহাড়বেষ্টিত পার্বত্য জেলা বান্দরবানেও শীতের তীব্রতা চরম আকার ধারণ করেছে। কনকনে ঠাণ্ডায় যখন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত, তখন শীতার্ত মানুষের পাশে মানবিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছে সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বিজিবির মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলায় ৫৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে শীতার্ত স্থানীয় অসহায়, দুঃস্থ পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও বাঙালি পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করা হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায়, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের কক্সবাজার রিজিয়নের অধীন বান্দরবান সেক্টরের আলীকদম ব্যাটালিয়ন (৫৭ বিজিবি) গত ৬ জানুয়ারি উপজেলার নয়াপাড়া ইউনিয়নে বসবাসরত স্থানীয় শীতার্ত পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায় ও দুঃস্থ বাঙালি পরিবারের মাঝে কম্বল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে।

এ সময় আলীকদম ব্যাটালিয়ন (৫৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মেহেদী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শীতার্ত জনসাধারণের হাতে কম্বল তুলে দেন।

ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিওপির (বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট) মাধ্যমে দুর্গম সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরত পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও প্রান্তিক শীতার্ত পরিবারের মাঝেও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়, যা স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক স্বস্তি এনে দেয়।

শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে বিজিবির বিভিন্ন পদবীর সদস্যবৃন্দ ছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মেহেদী বলেন, ভবিষ্যতেও আলীকদম ব্যাটালিয়ন (৫৭ বিজিবি)-এর এ ধরনের মানবিক ও সম্প্রীতিমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি বিজিবি সবসময়ই দুর্গম পার্বত্য এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের দুর্গম বাংলাদেশ–মিয়ানমার সীমান্তে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আলীকদম ব্যাটালিয়ন অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে চোরাচালান, মাদকদ্রব্য পাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় সীমান্ত অপরাধ দমনে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি ‘অপারেশন উত্তরণ’-এর আওতায় পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসরত নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের জন্য বিভিন্ন সময়ে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, আর্থিক অনুদান, খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ, শীতকালীন কম্বল বিতরণ এবং অগ্নিকাণ্ড ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণসহ নানাবিধ জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বিজিবির এসব উদ্যোগ পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার পাশাপাশি দুর্গম সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিজিবির এই মানবিক কর্মকাণ্ড স্থানীয়দের কাছে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।