শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে নওগাঁ, মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬.৭ ডিগ্রি

  • মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন
  • হিমেল বাতাসে বেড়েছে শীতের তীব্রতা
  • বোরো ধান রোপণে বাধা, দুশ্চিন্তায় কৃষকরা
  • ছিন্নমূল ও নিম্নআয়ের মানুষ চরম ভোগান্তিতে
  • তাপমাত্রা আরও কমার আশঙ্কা আবহাওয়া অফিসের

নওগাঁ প্রতিনিধি: মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে কনকনে শীতে কাঁপছে নওগাঁ জেলা। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলায় চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা এ বছর এখন পর্যন্ত দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

এর আগে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। তবে একদিনের ব্যবধানে নওগাঁতে তাপমাত্রা আরও কমে নতুন নিম্নরেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, কুয়াশার ঘনত্ব তুলনামূলক কম থাকলেও হিমেল বাতাসের কারণে শীতের তীব্রতা অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত উত্তরের ঠাণ্ডা বাতাসে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। শহর ও গ্রামাঞ্চলের মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।

তীব্র শীতের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ছিন্নমূল ও নিম্নআয়ের মানুষ। খোলা আকাশের নিচে থাকা এসব মানুষের জন্য রাতের সময় শীত আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। শীতবস্ত্রের অভাবে অনেকেই চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতেও। প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় ব্যাহত হচ্ছে বোরো মৌসুমের ধান রোপণের কাজ। মাঠে কাজ করতে না পারায় কৃষকেরা পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। দীর্ঘ সময় পানিতে দাঁড়িয়ে চারা রোপণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, “টানা প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে জেলায় বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। বুধবার সকাল ৬টায় নওগাঁতে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন। বর্তমানে নওগাঁ জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।”

এদিকে শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা সর্দি-কাশি, জ্বরসহ নানা সমস্যায় ভুগছেন। চিকিৎসকেরা প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পাশাপাশি গরম কাপড় ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।

সব মিলিয়ে টানা শৈত্যপ্রবাহে নওগাঁর জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।