সরকারি কর্মকর্তাদের সুখবর: নবম পে-স্কেলের সুপারিশ জমা শিগগিরই

নবম পে-স্কেলে বেতন বৃদ্ধি ৯০ শতাংশ: নিম্ন ও মধ্যম স্তরের চাকরিজীবীদের বেশি লাভ।

টুইট ডেস্ক: বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে জাতীয় বেতন কমিশনের (পে কমিশন) কার্যক্রম পুনরায় সচল হয়েছে।

২০২৫ সালের জুলাই মাসে গঠিত এই কমিশনের সুপারিশ প্রতিবেদন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৮ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১২টায় সচিবালয়ে পূর্ণ কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ সভায় গ্রেড সংখ্যা, বেতন বৃদ্ধির হারসহ অমীমাংসিত বিষয়গুলোতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে নির্ধারিত একটি সভা রাষ্ট্রীয় শোক বা অন্যান্য কারণে স্থগিত হয়েছিল। এখন নতুন তারিখ নির্ধারণ করে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

কমিশনের সূত্র থেকে জানা গেছে, প্রতিবেদন লেখার কাজ প্রায় শেষ। বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের মতামত চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

সভার পর সুপারিশপত্র জমা দেওয়ার চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হবে। সম্ভাব্যভাবে মধ্য জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জমা পড়তে পারে।

বেতন ও গ্রেড নিয়ে সম্ভাব্য প্রস্তাব

বেতন বৃদ্ধি: নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, মূল বেতন গ্রেডভিত্তিক প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ আসতে পারে। এটি সরকারি কর্মচারীদের জন্য উল্লেখযোগ্য সুখবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গ্রেড সংখ্যা: বর্তমানে ২০টি গ্রেড রয়েছে। কমিশনে তিন ধরনের প্রস্তাবনা আলোচিত হচ্ছে; অনেক সদস্য বিদ্যমান ২০ গ্রেড অপরিবর্তিত রেখে যৌক্তিক বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পক্ষে।
একটি অংশ গ্রেড কমিয়ে ১৬টি করার প্রস্তাব করছে।
কিছু আলোচনায় ১৩টি গ্রেডে নামানোর ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে, তবে সর্বশেষ খবরে ১৬টি গ্রেড অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা বেশি।

বাস্তবায়ন: সুপারিশ জমার পর সরকার যাচাই-বাছাই করে ২০২৬ সালের যেকোনো সময় গেজেট প্রকাশ করতে পারে। অনেকে আশা করছেন জানুয়ারি থেকেই কার্যকর হবে, সঙ্গে এরিয়ার্স প্রদানের সম্ভাবনা।

কর্মচারীদের দাবি-দাওয়া

সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলো নবম পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে সোচ্চার। কেউ কেউ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। কিছু সংগঠন রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন।

এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি। ৮ জানুয়ারির সভার ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপ। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, কারণ ২০১৫ সালের অষ্টম পে-স্কেলের পর এটি প্রথম বড় বেতন পুনর্বিন্যাস।

(সূত্র: সময় টিভি, আরটিভি, কালের কণ্ঠ, দেশ রূপান্তরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সর্বশেষ প্রতিবেদন, জানুয়ারি ৭, ২০২৬ পর্যন্ত)