দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের প্রার্থিতা নিয়ে ইসির ব্যাখ্যা চায় ‘ব্রিটিশ বাংলাদেশি ফোরাম’

শহিদুল ইসলাম, সিলেট: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ব্যক্তিদের প্রার্থিতা বিষয়ে সংবিধান ও আইনি অবস্থান স্পষ্ট করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে চিঠি দিয়েছে লন্ডনভিত্তিক সংগঠন ‘ব্রিটিশ বাংলাদেশি ফোরাম’।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর পাঠানো ওই চিঠিতে সংগঠনটি দ্বৈত নাগরিকত্ব, বিশেষ করে ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্যতা নিয়ে একটি সুস্পষ্ট সাংবিধানিক ব্যাখ্যা চেয়েছে। চিঠিতে সংগঠনটির আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট ব্রিটিশ-বাংলাদেশি আইনজীবী মনোয়ার হোসেন স্বাক্ষর করেন।
চিঠিতে বলা হয়, ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়নের সময় দ্বৈত নাগরিকত্বের ধারণা বাংলাদেশে কার্যকর ছিল না। সে সময় সংবিধানের ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হয়েছিল মূলত যারা বাংলাদেশ ত্যাগ করেছে বা পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছে, তাদের সংসদ সদস্য হওয়া ঠেকানোর জন্য।
সংগঠনটি উল্লেখ করে, সংবিধান প্রণয়নের অল্প সময় পরই ‘বাংলাদেশ নাগরিকত্ব (অস্থায়ী বিধান) আদেশ, ১৯৭২’ জারি হয় এবং পরবর্তীতে ‘বাংলাদেশ নাগরিকত্ব (দ্বিতীয়) আদেশ, ১৯৭৮’-এর মাধ্যমে দ্বৈত নাগরিকত্বের আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এর ফলে বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করলেও বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বাতিল হয় না।
চিঠিতে আরও বলা হয়, সরকার জারি করা এসআরওর মাধ্যমে যুক্তরাজ্যকে দ্বৈত নাগরিকত্বপ্রাপ্ত দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ফলে ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা বৈধভাবে দ্বৈত নাগরিকত্ব ধারণ করেন এবং তাদের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বহাল থাকে।
২০১০ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ৬৬(২ক) ধারা যুক্ত করে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কেবল বাস্তবে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করা হলে অযোগ্যতার প্রশ্ন আসে। নাগরিকত্ব ত্যাগ না করলে সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য হওয়ার বিষয়টি প্রযোজ্য নয় বলে চিঠিতে দাবি করা হয়।
সংগঠনটি আরও উল্লেখ করে, সংসদ সদস্যরা আইনপ্রণেতা—এই যুক্তিতে দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থিতা বাতিলের ধারণা সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ বিচার বিভাগীয় পদে দ্বৈত নাগরিকদের জন্য সংবিধানে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
চিঠিতে বলা হয়, ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা কখনোই বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বা দেশের প্রতি আনুগত্য ত্যাগ করেননি। তাই তাদের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্যতা অস্বীকার করা সাংবিধানিক অভিপ্রায়, প্রচলিত আইন ও গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী।
এ কারণে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বহাল রেখে দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না—সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছে সংগঠনটি।






