ভেনেজুয়েলায় দমন-পীড়ন তীব্র: এক ডজনের বেশি সাংবাদিক আটক

ভেনেজুয়েলায় এক ডজনের বেশি সাংবাদিক আটক, জাতীয় প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের দাবি।

বিশ্ব ডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় অন্তত এক ডজনের বেশি সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির জাতীয় প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (Colegio Nacional de Periodistas – CNP)।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিক্ষোভ এবং নিরাপত্তা অভিযানের প্রেক্ষাপটে সংবাদকর্মীদের ওপর এই ধরপাকড় চালানো হয়েছে।

জাতীয় প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আটক সাংবাদিকদের একটি বড় অংশ মাঠে রিপোর্টিংয়ের সময় অথবা বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা অভিযান কাভার করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন। অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের বিরুদ্ধে “রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা”, “উসকানিমূলক তথ্য প্রচার” কিংবা “জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের” মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এসব অভিযোগ অস্পষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রশ্নের মুখে

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভেনেজুয়েলায় গত কয়েক বছরে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিসর ক্রমশ সংকুচিত হয়েছে। সরকারবিরোধী বা সমালোচনামূলক খবর প্রকাশ করলে সংবাদকর্মীদের হুমকি, নজরদারি, গ্রেপ্তার এমনকি সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। সাম্প্রতিক এই আটকগুলো সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পরিবার ও সহকর্মীদের উদ্বেগ

আটক সাংবাদিকদের পরিবার ও সহকর্মীরা জানিয়েছেন, অনেকের অবস্থান সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। কয়েকজন সাংবাদিককে আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে তাঁদের নিরাপত্তা ও ন্যায্য বিচার নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সরকারের অবস্থান

ভেনেজুয়েলার সরকার সরাসরি সাংবাদিক নিপীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, “আইনের বাইরে কেউ নয়” এবং যারা আইন লঙ্ঘন করেছে, তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে তারা নির্দিষ্ট করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বা প্রমাণ প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো অবিলম্বে আটক সাংবাদিকদের মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদ সংগ্রহের অধিকার নিশ্চিত না হলে ভেনেজুয়েলায় গণতান্ত্রিক পরিবেশ আরও সংকটে পড়বে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে সাংবাদিকদের ওপর এই ধরনের দমন-পীড়ন দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলে ভেনেজুয়েলার ভাবমূর্তি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অপর‌দিকে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো মাদক পাচারের অভিযোগে নির্দোষ দাবি করেছেন, বলেছেন তাকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছে।