মাদুরো গ্রেপ্তার অভিযানে মিনিটের মধ্যে নিষ্ক্রিয় হয় বিমান প্রতিরক্ষা

ভেনেজুয়েলার চীনা রাডার ব্যবস্থা ব্যর্থ।
চীন দাবি করেছিল, তাদের তৈরি YLC-8E অ্যান্টি-স্টেলথ রাডার বিশ্বের সেরা এবং এটি শীর্ষ স্টেলথ যুদ্ধবিমান শনাক্ত করতে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বিমান হামলা থেকে রাজধানী কারাকাস রক্ষায় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এই রাডার ব্যবস্থা ক্রয় করেন।
বিশ্ব ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত চীনা উন্নত রাডার ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত এক সামরিক অভিযানে চীনের তৈরি JY-27A রাডারসহ দেশটির পুরো বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। অভিযানের একপর্যায়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে রাজধানী কারাকাসের বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী।
চীনা JY-27A রাডারকে দীর্ঘদিন ধরে ‘স্টেলথ হান্টার’ হিসেবে প্রচার করা হয়ে আসছে। চীনা সরকার ও রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, এই রাডার VHF ব্যান্ডে কাজ করে এবং F-22 ও F-35-এর মতো স্টেলথ যুদ্ধবিমান শত শত কিলোমিটার দূর থেকেই শনাক্ত করতে সক্ষম। ভেনেজুয়েলা এই রাডারের একাধিক ইউনিট ক্রয় করে সেগুলোকে দেশের বিমান প্রতিরক্ষার মূল স্তম্ভ হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল।
তবে ৩ জানুয়ারি রাতের মার্কিন অভিযান এই দাবির বাস্তবতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। ‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ’ নামের ওই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ১৫০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান, নজরদারি ড্রোন, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্ল্যাটফর্ম EA-18G গ্রাউলার এবং সাইবার আক্রমণের সমন্বিত ব্যবহার করে। অভিযানের প্রথম ধাপেই ভেনেজুয়েলার রাডার নেটওয়ার্কে তীব্র জ্যামিং চালানো হয়, ফলে JY-27A ও JYL-1 রাডার কার্যত অন্ধ হয়ে পড়ে।
মার্কিন সামরিক সূত্রের দাবি, অভিযানের পুরো সময়ে ভেনেজুয়েলার কোনো রাডারই মার্কিন বিমান বা ড্রোন শনাক্ত করতে পারেনি। পরবর্তী ধাপে অ্যান্টি-রেডিয়েশন মিসাইল ব্যবহার করে রাডার ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা হয়। একই সঙ্গে রুশ তৈরি S-300VM এবং Buk-M2E বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও কোনো কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়।
অভিযানের পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী কারাকাসে প্রবেশ করে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে এই অভিযানকে ‘অভূতপূর্ব সামরিক সাফল্য’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, আধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের যুগে প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা আবারও প্রমাণিত হয়েছে।
এই ঘটনায় চীনা সামরিক প্রযুক্তির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতিতে উন্নত ইলেকট্রনিক জ্যামিং ও সাইবার আক্রমণের মুখে চীনা রাডার ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, যা ভবিষ্যতে চীনের অস্ত্র রপ্তানির বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে মাদুরোর গ্রেপ্তারের পর ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি চরম অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছে। দেশটির সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের ভবিষ্যৎ অবস্থান, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া কী হবে—তা নিয়ে উদ্বেগ ও জল্পনা ক্রমেই বাড়ছে।






