মাদুরোর গ্রেপ্তারের পর কারাকাসে সমর্থকদের সমাবেশ

গ্রেপ্তারের পর উত্তেজনা কাটিয়ে ধীরে ছন্দে ফিরছে ভেনেজুয়েলার রাজধানী।
বিশ্ব ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর গ্রেপ্তারের দুই দিন পর রাজধানী কারাকাসে তার সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন।
সোমবার (৬ জানুয়ারি) আয়োজিত এসব সমাবেশে মার্কিন সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে নগরজুড়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে আসার লক্ষণও দেখা যাচ্ছে।
মাদুরোর গ্রেপ্তার
গত ৩ জানুয়ারি ভোরে মার্কিন বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলায় একটি আকস্মিক সামরিক অভিযান পরিচালনা করে নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে গ্রেপ্তার করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে ‘ব্রিলিয়ান্ট অপারেশন’ হিসেবে অভিহিত করেন। গ্রেপ্তারের পর মাদুরোকে নিউইয়র্কে নেওয়া হয়, যেখানে তার বিরুদ্ধে মাদক পাচার, নার্কো-টেররিজমসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
সোমবার নিউইয়র্কের আদালতে হাজির হয়ে মাদুরো নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং এখনো নিজেকে ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট বলে ঘোষণা দেন।
সমর্থকদের রাস্তায়
সোমবার কারাকাসে মাদুরোর সমর্থকেরা—বিশেষ করে ‘কোয়েকটিভোস’ নামে পরিচিত সশস্ত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠীর সদস্যরা—রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। তারা মাদুরোর মুক্তির দাবি জানিয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপকে ‘অবৈধ আগ্রাসন’ ও ‘অপহরণ’ হিসেবে আখ্যা দেন।
সমাবেশে ভেনেজুয়েলার জাতীয় পতাকা উড়ানো হয় এবং মাদুরোর ছবি সংবলিত পোস্টার ও ব্যানার প্রদর্শন করা হয়। এর আগের দিন রোববারও অনুরূপ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে হাজারো মানুষ অংশ নেন।
কারাকাসের সামগ্রিক পরিস্থিতি
মার্কিন অভিযানের পর প্রথম এক-দুই দিন কারাকাসে চাপা উত্তেজনা, নীরবতা এবং অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল। তবে সোমবার থেকে দোকানপাট, গ্যাস স্টেশন ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে খুলতে শুরু করেছে। রাস্তায় যান চলাচল বাড়ছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে মানুষের লাইনও দেখা গেছে।
একই সঙ্গে সম্ভাব্য অস্থিরতা মোকাবিলায় নগরজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও নতুন নেতৃত্ব
ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ মার্কিন অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘সার্বভৌমত্বের ওপর আগ্রাসন’ বলে উল্লেখ করেন। তবে তিনি আন্তর্জাতিক সংলাপের সম্ভাবনাও উন্মুক্ত রাখার কথা জানান।
জাতিসংঘে এই অভিযানের বৈধতা নিয়ে আলোচনা চলছে। রাশিয়া, চীন ও কিউবা মার্কিন পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছে। অন্যদিকে কিছু লাতিন আমেরিকান দেশ এ ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
অনিশ্চয়তার মধ্যেও স্বাভাবিকতার ইঙ্গিত
ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। ক্ষমতার ভবিষ্যৎ, আন্তর্জাতিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ শক্তিগুলোর অবস্থান পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যাবে—তা নিয়ে নানা জল্পনা চলছে।
তবে সব অনিশ্চয়তার মাঝেও কারাকাসে দৈনন্দিন জীবন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে, যা দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।







