তীব্র শীতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ৭ দফা নির্দেশনা

  • হাসপাতালগুলোতে রোগী সুরক্ষায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের নতুন চিঠি।
  • ভাঙা জানালা-দরজা মেরামত থেকে ওষুধ মজুত – ৭টি বাধ্যতামূলক নির্দেশ।

টুইট ডেস্ক: বাংলাদেশে চলমান তীব্র শীতের কারণে ঠান্ডাজনিত রোগ (যেমন নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ইত্যাদি) বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ অবস্থা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদফতর দেশের সব হাসপাতালের জন্য ৭ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে।

সে‌ামবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিটি সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।

জনস্বার্থে শীতকালীন রোগের প্রাদুর্ভাব রোধ ও রোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিম্নোক্ত ৭টি পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে;

১. হাসপাতালের ভাঙা জানালা, দরজা বা ঠান্ডা বাতাস প্রবেশের স্থান মেরামত করা।

পিডব্লিউডি, এইচইডি বা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এসব স্থান সংস্কার করতে হবে। এতে শীতকালীন তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে এবং রোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।

২. রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত কম্বল ও মশারি সরবরাহ
শীত ও তাপমাত্রা পরিবর্তনের কারণে সংক্রমণ বৃদ্ধি রোধ করতে এটি জরুরি।

৩. প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জামের মজুত নিশ্চিত করা
নেবুলাইজার সলিউশন, অ্যান্টিবায়োটিক, অক্সিজেন, ওরাল স্যালাইন, আইভি ফ্লুইডসহ অন্যান্য শীতকালীন রোগের চিকিৎসার ওষুধ পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ রাখতে হবে।

৪. শিশু ও মেডিসিন ওয়ার্ডে বাধ্যতামূলক বৈকালিক রাউন্ড
এসব ওয়ার্ডে নিয়মিত সন্ধ্যায় রাউন্ড নিশ্চিত করতে হবে।

৫. রোগীর অভিভাবকদের স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রদান।

শীতকালীন রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে অভিভাবক ও পরিবারের সদস্যদের পরামর্শ দিতে হবে।

৬. প্রতিদিনের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির প্রতিবেদন পাঠানো।

হাসপাতালের দৈনিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এমআইএস কন্ট্রোল রুমে পাঠাতে হবে।

৭. হাসপাতাল প্রধানদের বিশেষ নজরদারি।

শীতকালীন রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং রোগীদের সঠিক সেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল প্রধানদের ওপর বিশেষ নজর রাখতে হবে।

এ নির্দেশনাগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়নের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব পদক্ষেপ রোগীদের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।