চট্টগ্রামের রাউজানে টার্গেট কিলিং, যুবদল নেতা খুন

রাউজানে বাসার সামনে গুলি করে যুবদল নেতা জানে আলম সিকদারকে হত্যা।
টু্ইট ডেস্ক: চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় নিজ বাড়ির সামনে মুখোশধারী দুর্বৃত্তদের গুলিতে যুবদল নেতা জানে আলম সিকদার (৫১) নিহত হয়েছেন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাউজান উপজেলার পূর্বগুজরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে আজগর আলী সিকদারের বাড়ির সামনের সড়কে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অলিমিয়া হাট এলাকা থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা তিনজন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত জানে আলম সিকদারকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি সড়কে লুটিয়ে পড়েন। এরপর হামলাকারীরা দ্রুত মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়।
পূর্বগুজরা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক দীপ্তেষ রায় জানান, নিহতের বুকে ও পিঠে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম নগরীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন বলেন, মোটরসাইকেলযোগে আসা তিনজন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত পরিকল্পিতভাবে গুলি করে পালিয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে বলে জানান তিনি।
নিহত জানে আলম সিকদার পূর্বগুজরা এলাকার হামদু মিয়ার ছেলে। তিনি দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক। রাজনৈতিকভাবে তিনি রাউজান উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং পূর্বগুজরা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
নিহতের রাজনৈতিক পরিচয় প্রসঙ্গে রাউজান উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদ বলেন, জানে আলম সিকদার বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন। তিনি দাবি করেন, বিএনপিতে অনুপ্রবেশকারী আওয়ামী লীগের সমর্থকরা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সুমন বলেন, জানে আলম সিকদার দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত ছিলেন এবং একাধিকবার কারাবরণ করেছেন। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে শোক ও ক্ষোভের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
পুলিশ জানায়, মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বিস্তারিত জানানো হবে।






