সিরাজগঞ্জে শ্মশানে আ.লীগ নেতার বাধায় ইউএনও’র কার্যালয়ে লাশ নিয়ে প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের এক বৃদ্ধা নারীর মরদেহ সৎকারে আওয়ামীলীগ নেতা বাবলু ভৌমিক বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। দাহ করতে না পেরে লাশ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে ভিক্ষোভ করেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পরে উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনীতিবিদদের হস্তক্ষেপে লাশ দাহ করতে দেয়া হয়।

জানা যায়, উল্লাপাড়া পৌর এলাকার ঝিকিরা মহল্লার মৃত গনেশ বনিকের স্ত্রী বৃদ্ধা মিনা বনিক গত রবিবার রাতে মারা যায়। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সোমবার সকালে উল্লাপাড়া মহাশ্মশানে মরদেহ সৎকারে নেয়া হলে ঘোষগাঁতী মহল্লার বাসিন্দা ও স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ড নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবলু ভৌমিক বাধা দেন। তখন চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং সৎকার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ মৃতের স্বজন ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন মরদেহ নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।

মৃতের স্বজন রাজেশ চন্দ্র সাহা সহ অন্যান্যরা অভিযোগ করে বলেন, শ্মশানের চাবির জন্য বাবলু ভৌমিককে ফোন দিলে তিনি জানান, আপনারা মাইকিং করে যে শ্মশানের নাম ঘোষগাঁতী না বলে উল্লাপাড়া বলেছেন। তাই ওই শ্মশানে নিয়ে মৃতদেহ সৎকার করুন। এরপর আমরা চলে আসি। অথচ শ্মশানের নাম উল্লাপাড়া ছিল। পুরো উপজেলাবাসী মিলে এই শ্মশানটি গড়েছেন।

এদিকে বাবলু ভৌমিক অভিযোগ অস্বীকার করে মুঠোফোনে বলেন, রাতে একজন মারা গেলে তারা মাইকিং করে উল্লাপাড়া মহাশ্মশানে সৎকারের কথা জানায়। পরে আমাকে ফোন করে চাবি চাইলে আমি জানিয়ে দিই—চাবি আমার কাছে নেই। তারা আমাদের ঘোষগাঁতী মহাশ্মশানের কথা উল্লেখ করেননি।

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরফি বলেন, সকালে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক বৃদ্ধা নারী মারা যান। পরিবারের পক্ষ থেকে মহাশ্মশানের চাবি চাওয়া হলে তাৎক্ষণিকভাবে না পাওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়। পরে সৎকারের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত উল্লাপাড়া মহাশ্মশান-এর নাম সম্প্রতি পরিবর্তন করে ঘোষগাঁতী হিন্দু মহাশ্মশান করা হয়েছে। নামকরণ ও কর্তৃত্বকে কেন্দ্র করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় দুই পক্ষ দ্বন্ধ চলছে।