নাটোরে যৌতুকের দাবিতে নববধূ হ/ত্যার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর: নাটোরের বড়াইগ্রামে বিয়ের তিন মাসের মাথায় আদরী নামে এক নববধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

নিহত আদরী বড়াইগ্রাম উপজেলার নগর ইউনিয়নের তালশো গ্রামের দিনমজুর ছমির উদ্দিনের মেয়ে। তিনি একই ইউনিয়নের কুজাইল গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে মাহিম আলীর স্ত্রী। গত বুধবার (তারিখ) দুপুরে ঘটনাটি ঘটলেও বিষয়টি শনিবার গণমাধ্যমকর্মীদের জানানো হয়।

এ ঘটনায় আদরীর বাবা ছমির উদ্দিন বাদী হয়ে বড়াইগ্রাম থানায় আদরীর স্বামী মাহিম আলী, ননদ শাপলা, শ্বশুর লোকমান হোসেন ও শাশুড়ি সামেলা বেগমকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের সময় কোনো যৌতুকের দাবি না থাকলেও বিয়ের পরপরই আদরীর স্বামীপক্ষ স্বর্ণালঙ্কারের জন্য চাপ দিতে শুরু করে। সে সময় ছয় মাস সময় চেয়ে নেন আদরীর বাবা। এর মধ্যেই আদরীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। স্বামী, শাশুড়ি ও ননদের নির্যাতন নীরবে সহ্য করলেও একপর্যায়ে অসহনীয় যন্ত্রণায় নিজের দুর্দশার কথা বোনকে জানান আদরী।

খবর পেয়ে আদরীর পরিবার তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসতে চাইলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন বাধা দেয় এবং যৌতুকের জন্য ছয় মাস সময় বেঁধে দেয়। আদরীর জন্য স্বর্ণালঙ্কার কেনার উদ্দেশ্যে পরিবারের শেষ সম্বল একটি গরু বিক্রির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। আসন্ন কোরবানির ঈদে আদরীর জন্য ঝুমকা কেনার কথা ছিল। তবে তার আগেই যৌতুকের দাবিতে প্রাণ দিতে হয়েছে আদরীকে বলে অভিযোগ পরিবারের।

নিহতের দুলাভাই সেলিম হোসেন বলেন, শ্বশুরবাড়ির লোকজন দাবি করছে আদরী আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু আমরা তাদের বাড়ির বারান্দায় লাশ পড়ে থাকতে দেখি। ফাঁসিতে ঝুলে থাকার কোনো আলামত সেখানে পাওয়া যায়নি।

আদরীর বাবা ছমির উদ্দিন বলেন, “আমি দিনমজুর মানুষ। চার মেয়েকে নিয়ে কষ্ট করে সংসার চালাই। তবু একটি ষাঁড় পালন করছিলাম, সেটি বিক্রি করে তাদের চাহিদা অনুযায়ী স্বর্ণালঙ্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমার মেয়েকে সেই সময় দেয়নি। আমি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম বলেন, নিহতের বাবা একটি মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে।