সারা দেশে শতাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল

  • ঋণখেলাপি ও হলফনামা ত্রুটিতে বাদ দলীয়–স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
  •  বিএনপি, জামায়াত, জাপাসহ একাধিক দলের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল।
  •  দ্বৈত নাগরিকত্ব ও কাগজপত্র জটিলতায় কঠোর নির্বাচন কমিশন

টুইট প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে একাধিক রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে।

ঋণখেলাপি, হলফনামায় তথ্যগত ত্রুটি, দ্বৈত নাগরিকত্ব, দলীয় কাগজপত্রের অসংগতি ও অর্থের উৎস উল্লেখ না করাসহ নানা কারণে এসব সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তারা।

নরসিংদী

নরসিংদী-২ (পলাশ ও সদরের একাংশ) আসনে ৩ জন এবং নরসিংদী-৪ (বেলাব-মনোহরদী) আসনে ১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

নরসিংদী-২ আসনে ঋণখেলাপির দায়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুহসীন আহমেদ, নির্বাচনী ব্যয়ের অর্থের উৎস উল্লেখ না করায় ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোহাম্মদ ইব্রাহীম এবং পুরোনো ব্যাংক হিসাব ও পেশাসংক্রান্ত সঠিক তথ্য না দেওয়ায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী রফিকুল ইসলাম সেলিমের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
নরসিংদী-৪ আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী কাজী শরিফুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

মুন্সিগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ-১ (শ্রীনগর ও সিরাজদিখান) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ মোমিন আলীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
মুন্সিগঞ্জ-৩ (মুন্সিগঞ্জ সদর ও গজারিয়া) আসনে ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। এদের মধ্যে রয়েছেন মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব মো. মহিউদ্দিন।

টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলের ৮টি আসনের মধ্যে ৪টি আসনে যাচাই-বাছাই শেষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৩ প্রার্থীসহ মোট ৯ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলনের বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন— টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনের হারুন অর রশীদ, টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের মনোয়ার হোসেন সাগর এবং টাঙ্গাইল-৪ আসনের আমজাদ হোসেন।
এ ছাড়া টাঙ্গাইল-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আলী, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি আবদুল হালিম মিঞা এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য শাহ আলম তালুকদারের মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নীলফামারী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনে দুজন করে মোট ৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এদের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক নূরে আলম ছিদ্দিকী রয়েছেন।

নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে ৪ জন, নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনে ২ জন এবং নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) ও নীলফামারী-২ (সদর) আসনে ১ জন করে প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
নীলফামারী-৩ আসনে ঋণখেলাপির দায়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. রোহান চৌধুরী এবং হলফনামা সঠিকভাবে পূরণ না করায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আমজাদ হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

গাইবান্ধা ও রংপুর

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। হলফনামায় পেশাগত তথ্যের ত্রুটির কারণে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মাজেদুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়।

গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে ৮ জনের মধ্যে ৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। দলীয় মনোনয়নপত্রে ত্রুটির কারণে সিপিবির নেতা মিহির ঘোষের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

রংপুর

রংপুর-১, রংপুর-৩ (সদর ও সিটি করপোরেশনের ১০ থেকে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড) এবং রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে মোট ৭ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

রংপুর-৩ আসনে বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী রিটা রহমান, বাসদ (মার্ক্সবাদী)-এর আনোয়ারুল ইসলাম এবং খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান মণ্ডল।
রংপুর-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম বাশার, মো. জয়নুল আবেদিন এবং জাতীয় পার্টির (আনিস-রুহুল) মো. আবদুস ছালামের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়।
দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতায় রংপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মঞ্জুর আলীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রাম-২ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য পনির উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।

খুলনা

খুলনা-১ আসনে ৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী জি এম রোকনুজ্জামান।
খুলনা-৩ আসনের তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর এবং খুলনা-৫ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে। একই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শামীম আর পারভীনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
খুলনা-৬ আসনে জাতীয় পার্টির মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীরসহ দুজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

বরিশাল ও অন্যান্য জেলা

বরিশাল-৫ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এ কে এম মাহবুব আলম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী তরিকল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
বরিশাল-৬ আসনে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী আবদুল কুদ্দুস এবং বরিশাল-৫ আসনে বাসদের প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

এ ছাড়া মাদারীপুর-১ ও ২ আসনে ৩ জন, পটুয়াখালী-১ আসনে ৩ জন, পাবনা-১ (সাঁথিয়া-বেড়া একাংশ) আসনে ২ জন এবং ফরিদপুর-৩ ও দিনাজপুর-১ আসনে ১ জন করে প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করলে বাতিল হওয়া প্রার্থীরা পুনর্বিবেচনার সুযোগ পাবেন।