জিয়া উদ্যানের প্রবেশে একটিমাত্র ব্রিজ: সিদ্ধান্তের কারণ নিয়ে প্রশ্ন

শোকের দিনেও অবরোধের রাজনীতি: জিয়া উদ্যানে দুই গেট বন্ধ কেন?
বিশেষ প্রতিনিধি: সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দাফনের পরদিন রাজধানীর জিয়া উদ্যানে কবরে শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের জন্য একটিমাত্র ব্রিজকে প্রবেশপথ হিসেবে চালু রাখা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ আসার পরও অন্য প্রবেশপথগুলো বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।
কী ঘটেছে
সকালের দিক থেকেই জিয়া উদ্যানমুখী সড়কগুলোতে মানুষের ঢল নামে। তবে উদ্যানের ভেতরে প্রবেশের জন্য একটিমাত্র ব্রিজ ব্যবহার করতে দেওয়া হয়, বাকি গেট ও পথগুলো বন্ধ রাখা হয়। এতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা, পদদলনের আশঙ্কা এবং নারী–বয়স্ক–অসুস্থদের দুর্ভোগ বাড়ে। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও কবরে ফাতেহা পড়ার সুযোগ পাননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ দেখিয়েই এক ব্রিজে প্রবেশ সীমিত রাখা হয়। কর্মকর্তারা বলেন, বড় জমায়েতে একাধিক দিক খোলা থাকলে বিশৃঙ্খলার ঝুঁকি থাকে—এই যুক্তিতেই নাকি নিয়ন্ত্রিত প্রবেশব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কেন এই যুক্তি প্রশ্নবিদ্ধ
ভিড় ব্যবস্থাপনার মৌলিক নীতি হলো একাধিক প্রবেশ–প্রস্থান পথ খোলা রেখে মানুষের চাপ ভাগ করা।
একটিমাত্র ব্রিজে সব চাপ পড়ায় জট ও ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
দিনটি ছিল শোক ও শ্রদ্ধার—শান্তিপূর্ণ সমাবেশে অতি-কড়াকড়ি প্রয়োজনীয় ছিল কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন।
বিকল্প পথ প্রস্তুত থাকলেও সেগুলো না খোলায় পরিকল্পনার ঘাটতি স্পষ্ট হয়েছে।
রাজনৈতিক ও নাগরিক প্রতিক্রিয়া
দলীয় নেতাকর্মী ও নাগরিকরা বলছেন, এটি কেবল ব্যবস্থাপনাগত ভুল নয়; বরং অপ্রয়োজনীয় সীমাবদ্ধতা। তাঁদের দাবি, শোকের দিনে মানুষের চলাচল সহজ করাই উচিত ছিল। অনেকেই একে রাষ্ট্রীয় সৌজন্য ও মানবিকতার ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন।
বিশেষজ্ঞদের মত
নগর ও জননিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় সমাবেশে মাল্টিপল এন্ট্রি–এক্সিট, ওয়ান-ওয়ে ফ্লো, আলাদা লেন—এসব প্রয়োগ করলে ভিড় নিরাপদ থাকে। এক ব্রিজে সব মানুষ ঢোকানো স্ট্যান্ডার্ড ক্রাউড ম্যানেজমেন্টের বিপরীত।
জিয়া উদ্যানের প্রবেশে একটিমাত্র ব্রিজ চালু রাখার সিদ্ধান্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণের বদলে ভোগান্তি বাড়িয়েছে—এমনটাই সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা। ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় শোক ও বড় জনসমাগমে একাধিক প্রবেশপথ খোলা, স্বচ্ছ পরিকল্পনা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।






