খালেদা জিয়ার কবরে অশ্রুসিক্ত শ্রদ্ধা: জিয়া উদ্যানে মানুষের ঢল

অশ্রু, ভালোবাসা ও প্রার্থনায় ভেজা জিয়া উদ্যান: খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের মহাস্রোত।

ব‌দিউল আলম লিংকন: দাফনের পরদিন শুক্রবার ভোর থেকেই রাজধানীর জিয়া উদ্যান যেন পরিণত হয় এক গভীর শোক আর আবেগের মিলনস্থলে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানাতে লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল নামে। বয়স, পেশা, দলীয় পরিচয়ের ভেদাভেদ ভুলে সবাই ছুটে আসেন প্রিয় নেত্রীকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে।

সকালের আলো ফোটার আগেই জিয়া উদ্যানের চারপাশে মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। অনেকেই হাতে ফুল, কেউ জাতীয় পতাকা, কেউ বা শুধু অশ্রুসিক্ত চোখ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে একে একে মানুষ কবরের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে নীরবে ফাতেহা পাঠ করেন।
কবর জিয়ারতের সময় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়।

হৃদয়বিদারক পরিবেশে দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন পরিবারের সদস্য, দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। মোনাজাতে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়—তিনি যেন বেগম খালেদা জিয়াকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং তাঁর কবরকে শান্তিময় করেন।

পরিবারের সদস্যরা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আবেগ সামলাতে না পেরে বারবার চোখ মুছতে দেখা যায়। স্বজনদের নীরব কান্না উপস্থিত সবাইকে ভারাক্রান্ত করে তোলে। নেতাকর্মীরা কবরের সামনে মাথা নত করে বলেন, “এই কবর শুধু একজন নেত্রীর নয়, এটি বাংলাদেশের রাজনীতির এক অধ্যায়ের সমাপ্তি।”

দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষও নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। কেউ বলেন, “তিনি আমাদের সাহস ছিলেন।” কেউ বলেন, “এই দেশ তাঁকে কখনো ভুলবে না।” অনেক নারী নেত্রী খালেদা জিয়াকে নিজেদের রাজনৈতিক অনুপ্রেরণা হিসেবে স্মরণ করে অশ্রু ঝরান।

সারাদিন জুড়ে জিয়া উদ্যানে মানুষের স্রোত থামে না। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শোক আরও গভীর হয়, পরিবেশ আরও নীরব হয়ে ওঠে। শুধু কোরআন তিলাওয়াত, দোয়ার শব্দ আর চাপা কান্না—সব মিলিয়ে জিয়া উদ্যান পরিণত হয় এক আবেগঘন স্মৃতিক্ষেত্রে।

শোকস্তব্ধ এই দিনে মানুষের একটাই প্রার্থনা—দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের জীবনের পর মহান আল্লাহ যেন বেগম খালেদা জিয়াকে চিরশান্তির ঠিকানায় স্থান দেন।