বিএনপি কর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ জানাতে গিয়ে কারাগারে দুই ঠিকাদার

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে বিএনপির এক কর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ জানাতে থানায় গেলে উল্টো গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেছেন দুই ঠিকাদার। শুক্রবার তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে পবা উপজেলার নওহাটা পৌর এলাকায় রাস্তার কাজের সাইটে গিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে বিএনপি কর্মী আতাবুর রহমানের (৩৭) বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় স্থানীয় লোকজন তাঁকে মারধর করেন। পরে তাঁর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করলে অভিযোগকারী দুই ঠিকাদারই আসামি হন।

মারধরের শিকার আতাবুর রহমান নওহাটা পৌরসভার বাঘাটা মহল্লার বাসিন্দা। তিনি নওহাটা পৌরসভা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র শেখ মকবুল হোসেনের অনুসারী। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। মারধরের পর তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কারাগারে যাওয়া দুই ঠিকাদার হলেন, হাসানুজ্জামান বিপ্লব (৪৫) ও আজাদ আলী (৪৯)। তাঁরা পবা উপজেলার মহানন্দখালী গ্রামের বাসিন্দা। আজাদ আলী পবা উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার নওহাটা পৌরসভার একটি রাস্তার মাটি কাটার কাজ শুরু করেন বিপ্লব ও আজাদ। কাজটির মূল ঠিকাদারের কাছ থেকে তাঁরা উপঠিকাদার হিসেবে কাজ নিয়েছিলেন। কাজ শুরুর পর আতাবুর রহমান সেখানে গিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। টাকা না দিলে ভেকু ভেঙে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।

আজাদ আলী দাবি করেন, চাঁদা দাবির বিষয়টি নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে আতাবুরকে মারধর করেন। তিনি নিজে মারধরে জড়িত ছিলেন না।

ঘটনার পর বিপ্লব ও আজাদ চাঁদা দাবির অভিযোগ জানাতে পবা থানায় গেলে আতাবুর তাঁর লোকজন নিয়ে থানার সামনে গিয়ে তাঁদের মারধর করেন বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় অবস্থানের পর রাতে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

পবা থানার ওসি আব্দুল মতিন বলেন, “বিক্ষুব্ধ লোকজন আতাবুর রহমানকে মারধর করে। আমরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাই। পরে তাঁর বাবা বাদী হয়ে মামলা করলে বিপ্লব ও আজাদকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। শুক্রবার তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”

চাঁদা দাবি বা ঠিকাদারদের মারধরের ঘটনায় মামলা না নেওয়ার বিষয়ে ওসি বলেন, “তাঁরা তখন আসামি হিসেবে থানায় ছিলেন। তবে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর চাইলে তাঁরাও মামলা করতে পারবেন।”

চাঁদা দাবির অভিযোগের বিষয়ে আতাবুর রহমানের বক্তব্য জানতে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার একাধিকবার তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। তাঁর বাবা মতিউর রহমান বলেন, “চাঁদা দাবির কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা। পূর্বশত্রুতার জেরে আমার ছেলেকে মারধর করা হয়েছে।”

নওহাটা পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, “আজাদ যুবদলের কর্মী, আতাবুরও বিএনপির কর্মী। চাঁদা চাইতে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। তবে ৫ আগস্টের পর আতাবুরের কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকাজুড়ে ক্ষোভ আছে। যারা তাকে শেল্টার দেয়, তারা সুবিধা নেয়।”