জামায়াত-বিএনপির ঐক্যের বার্তা দিলেন জামায়াত আমির

জামায়াত আমিরের প্রত্যাশা: নির্বাচনের পরে সরকার গঠনের আগে বিএনপির সঙ্গে বসব।

স্টাফ রিপোর্টার: দেশের স্বার্থে অতীতের মতো বিএনপির সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচনের পরপরই সরকার গঠনের আগে একসঙ্গে বসে জাতির জন্য চিন্তা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং দলের অন্যান্য নেতারাও একই আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তারেক রহমান ও তার শোক-সন্তপ্ত পরিবারবর্গকে সমবেদনা জানাতে গিয়ে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন জামায়াত আমির। এ সময় তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য রাখা শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

খালেদা জিয়ার জীবন ও অবদান

প্রেস ব্রিফিংয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর পাশাপাশি তার সংগ্রামী জীবন ছিল গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে। তিনি বলেন, শেষ জীবনটা তিনি জেলে একাকিত্বে কাটিয়েছেন এবং যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা অমানবিক আচরণ করেছে।

জামায়াত আমির আরও উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হলে বিদেশে চিকিৎসার জন্য দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু সরকার সেই সময় সহযোগিতা না করে উপহাস করেছে। তবে আল্লাহর দয়া ও সমাজের চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় তিনি বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন, কিন্তু তার স্বাস্থ্য অনেকটা ভেঙে গেছে। দেশে ফেরার পরেও চিকিৎসা নিতে হয়েছে। তিনি বলেন, “আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন এবং জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন।”

তিনি খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের উপস্থিতিকে ইতিহাসসৃষ্টি হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “সবাই তার জন্য চোখের পানি ফেলেছে। এটা সবার কপালে জোটে না। আমাদেরও অনুপ্রাণিত করেছে, যাতে আমরা জাতির জন্য অবদান রাখলে দেশের মানুষও এভাবে সংবর্ধনা দেয়।”

আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ঐক্যের বার্তা

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে দাঁড়িয়ে আছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন ও একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গে কাজ করবে। তিনি বলেন, “আমরা অতীতে দেশের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করেছি, আগামীতেও ইনশাআল্লাহ একসঙ্গে কাজ করবো। তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতারা একই আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “জাতির স্থিতিশীলতা ও সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার স্বার্থে আগামী পাঁচ বছর আমরা সবাই মিলে মিশে দেশকে ভালো কিছু দিতে পারি। নির্বাচনের পরপরই সরকার গঠনের আগে আমরা খোলামেলা আলোচনা করব, জাতির জন্য সিদ্ধান্ত নেব।” তিনি বলেন, ম্যাডাম খালেদা জিয়া যে ঐক্যের ভিত্তি তৈরি করেছেন, তার ওপর দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা হবে।

জামায়াত ও বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক

জামায়াত আমির বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে যান। সেখানে প্রথমে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। পরে বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ও নজরুল ইসলাম খান, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান নীরব ও মোবারক হোসাইন।

এর আগে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিন মঙ্গলবার গুলশান কার্যালয়ে গিয়ে শোক বইয়ে স্বাক্ষর ও দলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সহ প্রতিনিধি দল। বুধবার মরহুমার জানাজাতেও জামায়াত আমিরসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।