এক পরীক্ষিত রাজনৈতিক ছায়ার অবসান

টুইট ডেস্ক: ধ্বংস নয়, প্রতিশোধ নয়, শেষবারের মতো রাজনীতির মঞ্চে এমন এক অহিংস বার্তাই রেখে গেছেন খালেদা জিয়া। ক্ষমতা আর কারাবাসের কঠিন পথ পেরিয়েও সংযমের এই উচ্চারণই আজ বিএনপির সামনে খুলে দিয়েছে এক নতুন বাস্তবতা।

রাষ্ট্রক্ষমতা, কারাবাস, নিপীড়ন আর অসুস্থতার দীর্ঘ অধ্যায় পেরিয়ে তিনি চলে গেলেন সর্বজনের সম্মান আর মর্যাদা নিয়ে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে যা বিরল দৃষ্টান্ত।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এস এম এ ফায়েজ বলছেন, যারা ইতিহাসের এই বৃহত্তম জানাজায় এসেছেন, তারা শুধু যে বিএনপির আদর্শ ধারণ করেন, তা নয়। বেশিরভাগই এসেছেন দেশনেত্রীর প্রতি তাদের শ্রদ্ধার কারণে।

বিষয়টাকে একটু অন্যভাবে ব্যাখ্যা করলেন লেখক-গবেষক আলতাফ পারভেজ। তিনি বলেন, এই জানাজাকে গণভোট হিসেবে নিলে বিএনপি ভুল করবে। এটা অবশ্যই একটা গণভোট, কিন্তু এটা বিএনপির জন্য নয়, এটা হলো শ্রদ্ধার গণভোট। বিএনপির জন্য এটা একটা সোনালী মুহূর্ত নিঃসন্দেহে। এক সপ্তাহ আগেও আমার মনে হয় না বিএনপির সংগঠকরা ভাবতে পেরেছেন যে তাদের নেতৃত্বের প্রতি এদেশের মানুষের, শেকড়ের এতো ভালোবাসা বা শ্রদ্ধা আছে। এটা তাদের জন্য হয়তো একটা বিস্ময়। এইরকম মুহূর্ত একটা রাজনৈতিক দলের জন্য খুব বিরল ঘটনা।

তিনি আরও বলেন, যে সম্মান ও মর্যাদায় তিনি আসীন হয়েছেন, তার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ধরে রাখতে আগামীতে বিএনপিকে জনবান্ধব রাজনীতিতে এগোতে হবে। সেটাই এখন দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

সামনে নির্বাচন। নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী, চার কোটি নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এখন এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে। এ প্রসঙ্গে ড. এস এম এ ফায়েজ বলেন, নেতা উনি শুধু নিজ গুণে নন। এরপেছনে রয়েছে তার বাবা-মায়ের অবদান। সেটা থেকে উনি একটা আস্থার জায়গা অর্জন করেছেন। এটাকে ধরে রাখা খুবই চ্যালেঞ্জিং।

আলতাফ পারভেজের মতে, উনি (খালেদা জিয়া) কখনও প্রতিপক্ষকে ঘৃণা-বিদ্বেষের ভাষায়, আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলেননি। তার ছেলে তারেক রহমানও ঠিক আক্রমণাত্মক ভাষায় এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে কথা বলেননি। বা উনাদের পরিবারের উপর যে জুলুম হয়েছে, সেটার জন্য এখন পর্যন্ত উনি কাউকে আক্রমণ করেননি বা দোষারোপ করেননি। এই বিষয়টা খুব প্রয়োজন আমাদের দেশে। বাংলাদেশের মানুষ আর প্রতিশোধের চক্রে যেতে চায় না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিদায় নয়, এটি বিএনপির পরীক্ষিত রাজনৈতিক ছায়ার অবসান। তাই জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে বিশ্বাসী ব্যক্তিদের আগামীতে খালেদা জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে এগিয়ে যাওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা।