সুদানে সন্ত্রাসী হামলায় ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত

বাংলাদেশের শান্তিরক্ষায় নতুন অধ্যায়: একদিনে গর্ব ও শোকের মিশ্র অনুভূতি।

টুইট ডেস্ক: সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যবর্তী বিতর্কিত আবেই (Abyei) অঞ্চলে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের (UNISFA) একটি ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬ জন শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৮ জন আহত হয়েছেন।

হামলার সময় তীব্র সংঘর্ষ হয় বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর)।

আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, সন্ত্রাসীরা হঠাৎ করে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা চালালে শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে গোলাগুলি শুরু হয়। এতে বাংলাদেশি কন্টিনজেন্টের সদস্যরা হতাহত হন। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি অস্থির এবং সংঘর্ষ চলমান। আহতদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অন্যান্য ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

কিছু সূত্রে হামলাটিকে “ড্রোন হামলা” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে আইএসপিআরের প্রাথমিক বিবৃতিতে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত আক্রমণ বলা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, এটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও মানবতার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ। তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। সরকার আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা ও নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে জাতিসংঘের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
বাংলাদেশ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী শোক প্রকাশ করেছে।

আবেই অঞ্চল তেলসমৃদ্ধ এবং সুদান-দক্ষিণ সুদানের মধ্যে বিতর্কিত। এখানে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন (UNISFA) ২০১১ সাল থেকে চলছে। বাংলাদেশ জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অন্যতম বড় অবদানকারী দেশ এবং আবেইতে দীর্ঘদিন ধরে সৈন্য মোতায়েন করে আছে। সাম্প্রতিক মাসে মিশনের মেয়াদ নবায়ন করা হয়েছে।

এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের আরেকটি উদাহরণ। নিহতদের পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। বিস্তারিত তথ্য পাওয়া মাত্র জানানো হবে বলে আইএসপিআর জানিয়েছে।

জাতি নিহত বীর শান্তিরক্ষীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছে।