বিশ্বের প্রথম ড্রোন যোদ্ধা তুরস্কের

তুরস্ক: কিজিলেলমা ড্রোনের ঐতিহাসিক সাফল্য তুরস্কের বায়রাক্তার কিজিলেলমা ড্রোন বিশ্বের প্রথম অনম্যান্ড ফাইটার জেট হিসেবে সিনোপ উপকূলে একটি জেট-চালিত টার্গেটকে বিভিআর মিসাইল দিয়ে ধ্বংস করেছে।

বিশ্ব ডেস্ক: তুরস্কের স্থানীয়ভাবে তৈরি অনম্যান্ড কমব্যাট এয়ারক্রাফট (ইউসিএভি) বায়রাক্তার কিজিলেলমা আজ বিশ্ব এভিয়েশন ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করেছে।

কৃষ্ণ সাগরের সিনোপ উপকূলে পরিচালিত পরীক্ষায় কিজিলেলমা প্রথমবারের মতো একটি জেট ইঞ্জিনচালিত উড়ন্ত টার্গেটকে দৃষ্টিসীমার বাইরে থেকে (বিভিআর) এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল দিয়ে সফলভাবে ধ্বংস করেছে।

পরীক্ষায় ব্যবহৃত মিসাইলটি তুরস্কের টিইউবিআইটিএকে সেজ প্রতিষ্ঠানের তৈরি গোকদোগান বিভিআর মিসাইল। এর রেঞ্জ ৬৫ কিলোমিটারের বেশি এবং এটি ফায়ার-অ্যান্ড-ফরগেট প্রযুক্তির।

কিজিলেলমার নিজস্ব এসেলসান মুরাদ এইইএসএ রাডার টার্গেট লক-অন করে এবং প্রথম শটেই ডিরেক্ট হিট করে। পুরো কিল চেইন – ড্রোন, রাডার ও মিসাইল – সম্পূর্ণ তুরস্কে তৈরি।

পরীক্ষার সময় পাঁচটি তুর্কি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান এবং একটি বায়রাক্তার আকিনজি ড্রোন কিজিলেলমাকে এসকর্ট করে উড়েছে। এটি ম্যানড-আনম্যান্ড টিমিংয়ের বাস্তব প্রমাণ দিয়েছে।

বায়কার টেকনোলজির সিটিও সেলচুক বায়রাক্তার সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “কিজিলেলমা দৃষ্টিসীমার বাইরে থেকে এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল দিয়ে টার্গেট ধ্বংস করে বিশ্বে প্রথমবারের মতো এই কীর্তি গড়ল।”

এর আগে ২০ নভেম্বর কিজিলেলমা ৪৮ কিলোমিটার দূর থেকে এফ-১৬-এর উপর সিমুলেটেড লক-অন করেছিল। আজকের পরীক্ষা ছিল প্রথম লাইভ ফায়ার টেস্ট।

কিজিলেলমা সুপারসনিক গতি (মাক ১+) সম্পন্ন, স্টেলথ ডিজাইনের এবং টিসিজি আনাদোলু এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার থেকে উড্ডয়ন-অবতরণ করতে সক্ষম। এর পেলোড ক্ষমতা ১,৫০০ কেজি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সাফল্য তুরস্ককে ড্রোন যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পাশে নিয়ে গেছে এবং ভবিষ্যতে এফ-৩৫-এর মতো ম্যানড ফাইটারের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প সংস্থা (এসএসবি) জানিয়েছে, কিজিলেলমার পরবর্তী ধাপে সোয়ার্ম (গুচ্ছ) অপারেশন এবং আরও দীর্ঘ রেঞ্জের মিসাইল ইন্টিগ্রেশন পরীক্ষা করা হবে।

এই অর্জন তুরস্কের স্বাধীন প্রতিরক্ষা শিল্পের আরেকটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।