বাড়িতে বসেই বুঝবেন হার্টে ব্লকেজ আছে কি না

টুইট ডেস্ক: হার্ট ব্লকেজ হঠাৎ করে সৃষ্টি হয় না—ধীরে ধীরে জমতে থাকা চর্বি, কোলেস্টেরল বা অন্যান্য উপাদান ধমনীর ভেতরে বাধা তৈরি করে। তবে বিপদ আসার আগেই শরীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত পাঠায়, যা ঘরে বসেই পর্যবেক্ষণ করে ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।

রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ

নিয়মিত রক্তচাপ মাপা হার্ট ব্লকেজ বোঝার সহজতম নির্দেশক। রক্তচাপ বারবার বেড়ে গেলে তা ধমনীর শক্ত হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এতে হৃদপিণ্ডকে রক্ত পাম্প করতে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়, যা ব্লকেজের সম্ভাবনা বাড়ায়।

হৃদস্পন্দনের অনিয়ম

হৃদস্পন্দনের গতি খুব দ্রুত বা খুব ধীর হওয়া, কিংবা ছন্দের অনিয়ম—এসবই ধমনীর পরিবর্তন বা হৃদযন্ত্রে বাড়তি চাপের প্রাথমিক লক্ষণ।

সিঁড়ি ওঠার ঘরোয়া পরীক্ষা

হার্টের ফিটনেস বোঝার অন্যতম সহজ উপায় হলো টানা চারতলা বা প্রায় ৬০ ধাপ সিঁড়ি ওঠা।

যদি স্বাভাবিকভাবে, ৯০ সেকেন্ডের মতো সময়ে শ্বাসকষ্ট ছাড়া সিঁড়ি উঠতে পারেন—তাহলে হার্ট সাধারণত ভালো কাজ করছে।

তবে সিঁড়ি ওঠার সময় বুকে চাপ, শ্বাসকষ্ট, পা ভারী লাগা বা মাথা ঘোরা দেখা দিলে তা হার্টে অক্সিজেন প্রবাহ কমে যাওয়ার প্রাথমিক সংকেত হতে পারে।

এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

এঙ্কেল-ব্র্যাকিয়াল ইনডেক্স (ABI) টেস্ট

ঘরে বসেও ABI টেস্ট করে ব্লকেজের ঝুঁকি বোঝা যায়। হাতের তুলনায় পায়ের গোড়ালির রক্তচাপ কম হলে সেটি রক্তপ্রবাহে বাধা বা ব্লকেজের ইঙ্গিত দেয়।

অন্যান্য সতর্ক লক্ষণ

বুকে চাপ, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ঘাম, শ্বাসকষ্ট—এসব উপসর্গ উপেক্ষা করলে বিপদ বাড়তে পারে। এগুলো ব্লকেজের প্রাথমিক সংকেত।

স্মার্ট ডিভাইসের ভূমিকা

এখন ঘরেই স্মার্টওয়াচ, মোবাইল অ্যাপ বা পোর্টেবল ইসিজি ডিভাইস দিয়ে হৃদযন্ত্রের ছন্দ ও বৈদ্যুতিক সিগন্যাল পর্যবেক্ষণ সম্ভব।

এসব ডিভাইস অস্বাভাবিক পরিবর্তন শনাক্ত করে হার্টে চাপ বাড়ছে কিনা তা জানাতে পারে।

হার্ট সুস্থ রাখার উপায়

নিয়মিত ব্যায়াম, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ কমানো এবং সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা হার্টকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ধমনীতে প্লাক জমা রোধ করতেও এগুলো কার্যকর।