যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া হত্যাকাণ্ড: আধিপত্যের টার্গেট কিলিং?

পল্লবীতে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া হত্যাকাণ্ড: আধিপত্যের দ্বন্দ্বে টার্গেট কিলিং, তদন্তে অগ্রগতি নেই।

টুইট ডেস্ক: রাজধানীর পল্লবীতে যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়া (৪৭)কে গুলি করে হত্যার ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে পল্লবী সি-ব্লকের ‘বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারি’ দোকানে বসে থাকা অবস্থায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা টার্গেট করে তাকে গুলি করে।

মোটরসাইকেলে এসে ৩–৪ জন হামলাকারী দোকানে প্রবেশ করে মাত্র কয়েক সেকেন্ডে মাথা, বুক ও পিঠে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজে পুরো ঘটনার অংশবিশেষ ধরা পড়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় কিবরিয়াকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। দুর্বৃত্তরা পালানোর সময় গুলিবিদ্ধ হন একজন অটোরিকশাচালক মো. আরিফ (১৮–২০), যিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল হলেও তিনি এখনও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের উপযোগী নন। ঘটনার পরপরই পল্লবী থানা পুলিশ একজন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে, তবে তার পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি স্পষ্টতই একটি পরিকল্পিত টার্গেট কিলিং এবং এর পেছনে রয়েছে যুবদলের অভ্যন্তরীণ আধিপত্য বিস্তারের লড়াই। পল্লবী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে নেতৃত্ব ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল—এ বিষয়টি তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তবে এখনো কোনো গ্রুপ বা ব্যক্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।

ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি গুলির খোসা, একটি লাইভ রাউন্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করেছে পুলিশ। প্রয়োজনে র‍্যাব, সিআইডি ও ডিবিকেও তদন্তে যুক্ত করা হতে পারে।

হত্যাকাণ্ডের পর পল্লবী এলাকা ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণে যুবদল-বিএনপি নেতাকর্মীদের ভিড় দেখা গেছে। যুবদল ও বিএনপি নেতারা ঘটনাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যা বলে দাবি করেছেন এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক হামলা যার বিচার না হলে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়া X (টুইটার)-এও নেতাকর্মীরা শোক প্রকাশ ও ক্ষোভ জানিয়ে হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।

এদিকে হত্যার পর পল্লবী এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে থমথমে। যদিও কোনো নতুন সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি, তবুও পুরো এলাকা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাটি যুবদলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বেরই প্রতিফলন বলে দেখা হচ্ছে।

তদন্ত অগ্রসর হলে হত্যাকারীদের পরিচয়, উদ্দেশ্য এবং পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ পাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।