রক্তাক্ত সংঘর্ষে নুর আইসিইউতে, সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড়

টুইট প্রতি‌বেদক: রাজধানীর কাকরাইল ও বিজয়নগর এলাকায় শুক্রবার রাতে পুলিশ, সেনাসদস্য ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এতে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, যার মধ্যে দলটির শীর্ষ নেতা নুরুল হক নুর গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন।

সন্ধ্যার পর থেকেই রাজধানীর বিজয়নগরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে পুলিশ ও সেনাসদস্যরা তাদের ওপর বর্বর হামলা চালায়। এতে নুরুল হক নুরসহ বহু নেতাকর্মী রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। প্রথমে নুরকে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাত ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, কাকরাইলে দুটি রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষ থেকে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়। এ সময় উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হলেও কিছু নেতাকর্মী তা অমান্য করে মশাল মিছিল বের করে এবং ইট-পাটকেল ছোড়ে। তারা সংগঠিতভাবে পুলিশ ও সেনাসদস্যদের ওপর আক্রমণ চালায়। এতে সেনাবাহিনীর অন্তত পাঁচ সদস্য আহত হন বলে জানানো হয়। জননিরাপত্তা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বল প্রয়োগে বাধ্য হয়।

ঘটনার পর ঢাকাসহ সারা দেশে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। বিভিন্ন জেলায় দফায় দফায় মিছিল ও সড়ক অবরোধের খবর পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা, রংপুর ও ময়মনসিংহে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। রাজধানীর নয়াপল্টন, প্রেসক্লাব ও শাহবাগ এলাকাতেও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

গণঅধিকার পরিষদ এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে নুরের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। দলটি শনিবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

অন্যদিকে সরকার জানিয়েছে, সকল প্রকার মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, জননিরাপত্তা ও শান্তি রক্ষায় তারা সর্বদা প্রস্তুত।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং সাধারণ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।