মোদীর সঙ্গে বৈঠকে শেখ হাসিনাকে থামাতে অনুরোধ ইউনূসের

টুইট নিউজ : বিমসটেক সম্মেলনের সাইডলাইনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে প্রথমবার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে তিনি ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর পাশাপাশি তার ‘উসকানিমূলক বক্তব্য’ বন্ধে ব্যবস্থা নিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানান।

ইউনূস অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা বিভিন্ন মাধ্যমে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে ‘বিদ্বেষমূলক মন্তব্য’ করে যাচ্ছেন, যা ভারতের আতিথেয়তার লঙ্ঘন। তিনি বলেন, “যেহেতু তিনি আপনার দেশে অবস্থান করছেন, তাই এ ধরনের বক্তব্য বন্ধে ভারতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই ভারতে অবস্থান করছেন। এরপর থেকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে টানাপড়েন দেখা দেয়। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুম ও হত্যা, গোপন বন্দিশিবির পরিচালনা এবং গণহত্যার অভিযোগে একাধিক মামলা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ভারতকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার, যদিও এখনো সাড়া মেলেনি।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে উত্তেজনার জন্য দায়ী করে বলেন, “ভারতের সম্পর্ক একটি দেশের সঙ্গে, কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নয়।”

এছাড়াও বৈঠকে গঙ্গা ও তিস্তার পানি বণ্টন, সীমান্ত হত্যা এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়। সীমান্তে প্রাণহানির প্রসঙ্গে মোদী জানান, ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায় এবং এসব ঘটনা ভারতের ভেতরেই ঘটে।

সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রসঙ্গে মোদীর উদ্বেগের জবাবে ইউনূস বলেন, অধিকাংশ খবর ভুয়া এবং সঠিক তথ্য জানতে ভারতীয় সাংবাদিকদের বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানান তিনি।

বৈঠকে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেনটেটিভ খলিলুর রহমান, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল।